দেশব্যাপী ধর্ষণ ও যৌন নিপিড়নের প্রতিবাদে কুষ্টিয়ায় শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচী

সারাদেশ

কে এম শাহীন রেজা, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।।
কুষ্টিয়ায় দেশব্যাপী ধর্ষণ ও যৌন নিপিড়নের প্রতিবাদে ঘোষিত কর্মসূচীর দ্বিতীয় দিন বুধবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। উক্ত অবস্থান কর্মসূচিতে, বিভিন্ন সামাজিক- সাংস্কৃতিক- রাজনৈতিক সংগঠন সহ, সর্বস্তরের সাধারন নাগরিক একাত্মতা ঘোষণা করেন।প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচীতে বক্তাগণ বলেন নারীর প্রতি সহিংসতা দমনে কঠোর আইনের প্রয়োগ ও সামাজিক আন্দোলন জরুরী। এক্ষেত্রে বিচারের দীর্ঘসূত্রীতা, প্রচলিত আইনে “ভিক্টিম-ব্লেমিং”, গ্রাম্য-শালিষে ধর্ষিতার সাথে লিয়াজো প্রভৃতি সহিংসতা প্রতিরোধের অন্তরায়।ঢাকা থেকে চলমান আন্দোলনের সাথে একাত্মতা রেখে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষনা দেয়া হয়। প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে ৬টা, কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। উক্ত সমাবেশে সর্বস্তরের মানুষকে অংশগ্রহণ করার আহবান জানান অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা।একের পর এক ধর্ষন ও যৌন-নিপীড়নের ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কুষ্টিয়ায় সর্বস্তরের  সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আজকের ন্যয় গত মঙ্গলবার বিকেলে শেখ রাসেল কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতুর উপর স্বাস্থ্যবিধি মেনে, নিরাপদ সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে এক প্রতিবাদী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।এই প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে সারাদেশে চলমান ধর্ষন ও যৌন-নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করা হয়, একই সাথে, শাহবাগ থেকে ঘোষিত ৯দফা দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষনা করা হয়। দাবি গুলো হলো: ১. সারা দেশে অব্যাহত ধর্ষণ-নারীর প্রতি সহিংসতার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।২. পাহাড়-সমতলে আদিবাসী নারীদের ওপর সামরিক-বেসামরিক সব ধরনের যৌন ও সামাজিক নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।৩, হাই কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতন বিরােধী সেল কার্যকর করতে হবে। সিডো সনদে স্বাক্ষর ও তার পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সব আইন ও প্রথা বিলােপ করতে হবে।৪. ধর্মীয়সহ সব ধরনের সভা-সমাবেশে নারীবিরােধী বক্তব্য শাস্তিযােগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। সাহিত্য, নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন বন্ধ করতে হবে। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে বিটিসিএলের কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক চর্চায় সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে।৫. তদন্তকালীন সময়ে ভিকটিমকে মানসিক নিপীড়ন-হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ভিকটিমের আইনগত ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।৬. অপরাধ বিজ্ঞান ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে অনিষ্পন্ন সব মামলা দ্রুত নিষ্পন্ন করতে হবে। ৭. ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন ১৮৭২-১৫৫ (৪) ধারা বিলােপ করতে হবে এবং মামলার ডিএনএ আইনকে সাক্ষ্য প্রমাণের ক্ষেত্রে কার্যকর করতে হবে।৮. পাঠ্যপুস্তকে নারীর প্রতি অবমাননা ও বৈষম্যমূলক যে কোনাে প্রবন্ধ, নিবন্ধ, পরিচ্ছেদ, ছবি, নির্দেশনা ও শব্দ চয়ন পরিহার করতে হবে।৯. গ্রামীণ সালিশের মাধ্যমে ধর্ষণের অভিযাগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকে শাস্তিযােগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।এছাড়াও, যৌন সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাক্রমে সেক্স-এডুকেশন সংযুক্ত করার দাবি জানানো হয়।উক্ত মানববন্ধনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করে একাত্নতা ঘোষণা করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *