চুয়াডাঙ্গায় নিজ বাড়িতে জায়গা নেই গর্ভ ধারনি মায়ের, অভিযোগ গড়িয়েছে থানায়

সারাদেশ

আসহাবুল আলম বিশেষ প্রতিনিধি চুয়াডাঙ্গা:

নিজের বাড়ি থেকে বিতাড়িত মা। মারধর, নির্যাতন ও অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বাড়ি ছাড়া ৬ সন্তানের জননী। কষ্টে-দুঃখে বাড়ি ছেড়ে সুবিচারের আশায় লিখিত অভিযোগ করেছেন দর্শনা থানায়।জানা গেছে, প্রসঙ্গ গত ১৫ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কোটালি পূর্বপাড়া’র মৃত আতিয়ার রহমান এর স্ত্রী শাহানারা খাতুন (৫৮) তার আপন বড় ছেলে আজাদ আলীর বিরুদ্ধে দর্শনা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রসঙ্গগত বৃহস্পতিবার ০৯- ১০- ২০২০ ইং তারিখ আমার ৩ মেয়ে তাদের ভাগের অংশ আজাদ আলীর কাছে চাইতে আসলে বিবাদী আজাদ আলী আমার ৩ মেয়ের সাথে গ্যানজাম ফাসাদের সৃষ্টি করে এরং আমার ৩ মেয়েকে তাদের অংশ ফিরিয়ে দিবেনা বলে হুমকি প্রদান করে, এই বিষয় নিয়ে আমাদের এলাকার গর্নমান্য ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও আমাদের এলাকার মেম্বার মোঃ কায়েস উদ্দিন উল্লেখিত সমস্যার একটি মিমাংসা করে দেই কিন্তু বিবাদী আজাদ আলী উক্ত মিমাংসা মেনে নিতে বাধ্য নাই।

উল্লেখ থাকে যে বিবাদী আমাকে উপেক্ষা করে আমার বসত ঘর ভেঙ্গে অবৈধ্য উপায়ে ইটের প্রাচীর নির্মান করেছে। এমতব্যস্থায় বিষয়টি স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও পরিবারের ব্যক্তিগের সাথে আলাপ আলোচনা করিয়া থানায় আসিয়া অভিযোগ করিতেছি।

এ ব্যাপারে শাহানারা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর আমার ৬ সন্তান ২ ছেলে ৪ মেয়ে কে যার যা প্রাপ্য তার ততটুকু জমি আমি ভাগ করে দিয় জমি ভাগ করে দেওয়ার পর বড় ছেলে আজাদ আলীকে বাংলাদেশ সরকার থেকে ঘর দেয়। তার ভাগে বসত বাড়ি নির্মান করে দেই সরকার। শাহানারা খাতুন আরো বলেন, আমার ৩ মেয়ের জমি বড় ছেলে আজাদ আলী অবৈধ্য ভাবে ভোগ দখল করে রেখেছে। ৩ মেয়ের জমি ছেড়ে দিতে বলায় বড় ছেলে আজাদ আলী আমার উপর অত্যাচার গালি-গালাজ শুরু করে আর বলে তোর ৩ মেয়ের জমি আমার নামে লিখে না দিলে বাড়ি থেকে বের করে দিবো।

এবিষয়ে জাহানারা খাতুন এর ছোট ছেলে শিহব আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মা কারো প্রতি অন্যায় করেননি। বরং আমার ভাই আজাদ আলী মায়ের কাছ থেকে অনেক টাকা পয়সা নেয়ার পরও তিন বোনের ভাগের জমি দাবি করছেন। এখন মা আমার কাছে চুয়াডাঙ্গা সদর আছেন।

এব্যাপারে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মাহবুবুর রহমান কাজল জানান, ঘটনাটি খুবই অমানবিক। অভিযুক্তর বিরুদ্ধে যথাযথ ভাবে আইনগত ব্যবস্তা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যাবস্থা নিতে গরিব অসহায় মানুষের অভিবাবক চুয়াডাঙ্গা জেলার মানবিক সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোঃ জাহিদুল ইসলাম এর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন পরিবারটি-সহ সচেতন মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *