পুলিশকে সহযোগিতা করলেও সাংবাদিকরা সামান্য ভুলে হামলা-মামলার শিকার হোন!

সারাদেশ

সাইফুল ইসলামঃ সাংবাদিকরা পুলিশকে সহযোগিতা করলেও সেই সাংবাদিকদের সামান্য ভুলের কারণে বড় ধরণের হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। টিভি বা সংবাদপত্রের সম্পাদক ও সাংবাদিকতায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
সাংবাদিকতা মহান পেশায় সম্মান অর্জন করা এতো সহজ কাজ নয়। সারাদেশে প্রায় জেলাগুলোতে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক হামালা, মামলার শিকার হচ্ছেন, সেই সাথে বিভিন্ন অপরাধীদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক সংবাদ প্রকাশের কারণে পত্রিকাসহ বিভিন্ন মিডিয়ার সম্পাদকের নামে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে মিথ্যা মামলা করা হয়, এবং মামলায় আদালতে হাজির না
দেখিয়ে কিছু পুলিশ সদস্যের কথামত গ্রেফতারি পরোয়ানা তৈরি করা হয়, আবার নতুন করে সেই পরোয়ানা ফেরত নিতে হয় সাংবাদিককে।

সাংবাদিকরা অনেকেই আদালতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করতে গেলে আদালতে সাংবাদিকের পক্ষে খুব কম মামলা রেকর্ড করেন। বর্তমানে সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সবাইকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বই পড়া বাধ্যতামূলক হয়েছে। মিথ্যা প্রচার ও মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হয়ে সবকিছু হারিয়ে পথে বসেছেন অনেক সাংবাদিক। সবাইকে সচেতন হতে হবে,
দেশের আইন আদালতকে সম্মান করতে হবে, আর যেকোনো অপপ্রচার থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে, এতে করে সবার জন্য মঙ্গল। বিদেশে সাংবাদিকদের বেতন ভাতা ও সম্মানি দেয়া হয়, আর বাংলাদেশে সাংবাদিকদের বেতন ভাতা ও সম্মানি দেয়াতো দূরের কথা, সামান্য ছোট একটি ভুল করলে তাদেরেকে বড় মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। যেমনঃ ৩৯৯/৪০২/১৭০/১৭১/ বা ৪০৬/৪২০ ধারায় মামলা দেয়া হয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। কিছু পুলিশ সদস্য ঘুষ বাণিজ্য করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বা সংবাদ প্রকাশ করতে গেলেই ওই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন মামলা দিয়ে থাকে তারা। এরকম অনেক ঘটনার শিকার হচ্ছেন দেশের সাংবাদিকরা, এ যেন দেখার কেউ নেই। “এই জন্য সাংবাদিকদেরকে আরও সচেতন হতে হবে, অবশ্যই
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বই পড়া দরকার”। প্রকৃত সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিশেষ করে প্রকৃত সাংবাদিক সত্যিকারের জাতির বিবেক ও প্রথম সারির সৈনিক। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট বিশ্ববিপর্যয়ের এই সময়ে গণমাধ্যমের প্রয়োজন অনেক বেড়ে গেছে, কিন্তু
প্রকৃত সাংবাদিক তারাই যারা তথ্যসহকারে সংবাদ প্রকাশ করেন। যারা নিয়মিত গণমাধ্যমের সঙ্গে সংযোগ রাখতেন না, ব্যস্ততার কারণে অনলাইন বা সংবাদপত্র পড়ার সুযোগ পেতেন না, তাঁরাও এখন স্বাভাবিক ভাবেই গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছেন।
বর্তমান ভয়ংকর করোনা মহামারি রূপ নিয়েছে প্রতিদিন মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। গণমাধ্যমই এই সংকটের সময়ে মানুষকে তথ্য দিচ্ছে সাংবাদিকরা, তথ্যের বিশ্লেষণ উপস্থাপন করছেন তারা। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রন্টলাইনে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের মধ্যে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা যেমন আছেন, তেমনি যুক্ত আছেন গণমাধ্যম কর্মী সাংবাদিকরা। বিশ্বে কোভিড-১৯ এর মহামারিতে মানুষ জীবন বাঁচাতে লড়াই করছেন সবাই। করোনায় মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন,এই পরিস্থিতিতেও ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশের অনেক সাংবাদিক। এর জন্য দায়ী কথিত কিছু সাংবাদিক ও কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য। সাংবাদিকরা অনেকেই নিজেদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করার কারণে অন্যরা এই সুযোগে তাদেরকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে, আর মিথ্যা মামলা দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করছে। এতে মহৎ পেশা সাংবাদিকতায় বাড়ছে জটিলতা।
বিভিন্ন কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করায় তাদেরকে গ্রেফতার হতে হয়। যারা নিউজ করে না, শুধু নামমাত্র সাংবাদিক, তারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বুঝবে না,কিন্তু অনেকেইে মন্তব্য করেছেনে যে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চলছে গভীর ষড়যন্ত্র,
যেসকল সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে ষড়যন্ত্র করে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে সে বিষয়টি দেশ ও জাতির জন্য লজ্জাজনক। সাংবাদিক শব্দ সহজ হলেও প্রকৃত সাংবাদিকতা পেশা সহজ না। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হলো সাংবাদিকতা, তবে সম্মানজনকও সাংবাদিক পেশা। মানুষ শুধু চাওয়া পাওয়া নিয়ে ব্যস্ত, কিন্তু সকল শ্রেণি পেশার মানুষেরই
রয়েছে না পাওয়ার বেদনা, কিন্তু বর্তমানে করোনা ভাইরাস মহামারিতে কার কখন মৃত্যু হবে তা কেউ জানিনা। করোনায় বাংলাদেশসহ বিশ্বে লাখ লাখ মানুষের অকালে মৃত্যু হচ্ছে। কেউ কারো না, তার নাম করোনা। দেশের অনলাইন পোর্টালসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে লক্ষাধিক সংবাদ কর্মী এবং স্টাফ কাজ করতেন, তারা এখন বেশিরভাগ
সাংবাদিক বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন, আর কিছু প্রতারক অপরাধী ও কথিত সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ফায়দা লুটছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে কিছু অপরাধীদেরকে গ্রেফতার করলেও আদালত থেকে জামিনে এসে আবার যা তাই। বাংলাদেশের আইনজীবী, পুলিশ, সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধিসহ সকল পেশায় কিছু বেঈমান ও দুষ্টু প্রকৃতির
লোক থাকে, তারা মানুষের সাথে প্রতারণা করার কারণে প্রকৃত ভালো মানুষের বদনাম হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই
প্রকৃতির কিছু অপরাধীকে আটক করলেও তারা আইনের ফাঁক দিয়ে বেঁচে যাচ্ছে, আদালত থেকে জামিন নিয়ে আবার অপরাধ করছে। বাংলাদেশ পুলিশ, সাংবাদিক, আইনজীবি ও জনপ্রতিধিগণ, এই চারটি শব্দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে “কলম সৈনিক অর্থাৎ সাংবাদিক”। অভিমত ঃ সাংবাদিক হতে চাইলেই হওয়া যায়, কিন্তু সংবাদ লেখা ও প্রকাশ করা সহজ কাজ নয়। নিউজ না করেই কার্ড গলায় ঝুঁলিয়ে অনেকেই পরিচয় দেন যে, তারা সাংবাদিক। এটা ভুল ধারণা, ভুল ধরার জন্য অনেকেই আছেন কিন্তু কাজে তারা ঠনঠনা ঠন। সাংবাদিকতা করতে হলে সাংবাদিকতার আদর্শলিপি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের
বইসহ বিভিন্ন বই পড়তে হয়। যারা নিউজ করেন, তাদেরকে তালিকা করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসহ সরকারিভাবে বেতন ভাতা ও সম্মানি ভাতা দেওয়ার দাবি জানান, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা’র ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক
মোঃ সাইফুল ইসলাম হেলাল শেখ। তিনি বলেন, প্রকৃত সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন, তাদেরকে নিরাপত্তা দেয়াসহ সম্মানি ভাতা প্রদান করলে তারা দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে আরও আগ্রহী হবেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সাংবাদিকদের টেনিং করার ব্যবস্থা করতে হবে, এতে সাংবাদিকরা সঠিকভাবে কাজ করতে পারবেন। বিশেষ করে সংবাদের উৎসহের মত সংবাদের উপাদান কি? মানুষ এবং প্রকৃতি, মানুষের আশা-আকাঙ্খা, আনন্দ, বেদনা, সুখ-
দুঃখ, সমস্যা ও সম্ভাবনাই সংবাদের মূল প্রতিপাদ্য। এর সাথে সম্পৃক্ত সকল বিষয়ই সংবাদের উপাদান। যেমনঃ কুকুর যদি মানুষকে কামড়ায় তা কোনো সংবাদ নয়, আর মানুষ যদি কুকুরের মতো কিছু করে বা অপ্রত্যাশিত কোনকিছু করে তা সংবাদ হতে
পারে। নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটনা, অন্যায় অবিচার, যা মানুষের অধিকারকে হরণ করে, এরকম অনেক বিষয়কে সংবাদ বলা যেতে পারে। ভুলের ক্ষমা হয় কিন্তু অপরাধীর ক্ষমা নয়। বিশেষ করে সাংবাদিক কি কখনো পুলিশের বন্ধু হতে পেরেছেন? জাতির কাছে এই প্রশ্ন রেখে যাচ্ছি, সাংবাদিকের নিরাপত্তা দিবে কারা? সবাইকে ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *