কালিয়াকৈরে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য স্মরণ করিয়ে দিতে পালকি ও ঘোড়া ব্যবহারের মাধ্যমে রায়হান মুক্তি দম্পতির বিয়ে সম্পন্ন

ঢাকা

জিয়ারত হোসেন 
কালিয়াকৈর(গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে উপজেলায় লতিফপুর এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেলে উৎসবমূখর পরিবেশের মাধ্যমে রায়হান মুক্তি দম্পতির বিয়ে
সম্পন্ন হয়েছে। ঘটক রমলা ও সামছুল খন্দকারের ঘটকালীতে সিরাজুল ইসলামের ওকালতীর মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হয়। বরের বাড়ি হলেন, গাজীপুর
জেলার শ্রীপুর থানার আনন্দ বাজার (কপাটিয়াপাড়া) এলাকার এডভোকেট
রহমত আলীর ছেলে ইঞ্জিনিয়ার রায়হান মজিদ প্রকাশ (২৭) তিনি রেজা
গ্রুপে ইন্ডাষ্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ার পদে চাকুরি করেন। কর্ণের বাড়ি হলেন,
গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার লতিপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের
মেয়ে মুক্তি আক্তার তৃষ্ণা (২২) তিনি গাজীপুর জয়দেবপুর ভাওয়াল বদরে
আলম সরকারি কলেজের একাউন্টিং বিষয়ে অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্রী।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দুই পক্ষের ঘটকের মাধ্যমে জানুয়ারি
মাসের ১ তারিখে কাবিন সম্পন্ন করা হয়। তারপর থেকে বর পক্ষ পরিকল্পনা
করে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরে এই বিয়েটি সম্পন্ন করার। পরে
তারা পালকি ও ঘোড়ার মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করে আমাদের অবাক করে
দিয়েছে। আমরা এলাকাবাসী সত্যি বলতে এই ঐতিহ্য কে কাজে
লাগাতে চেষ্টা করব। ভবিষ্যতে এ থেকে আমাদের যারা ইয়াং জেনারেশন
আছে তারা জানতে পাড়লো পুরাতন ঐতিহ্য টাকে, চিনতে পাড়লো,
বুঝতে পাড়লো সব মিলিয়ে আমরা গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে বরের পরিবার ও
আত্মীয় স্বজনদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
বরের পরিবার সূত্রে জানা যায়, এটা তাদের কোনো পূর্ব পরিকল্পনা ছিল
না কিন্তু হঠাৎ করে পরিবারের মাঝে থেকে এই পরিকল্পনা করে এবং যখন
কাবিন সম্পন্ন করা হয়। তখন সেখানে কথা হয় আমরা কর্ণেকে পালকির
মাধ্যমে তুলে নিব। গ্রামের একটি ঐতিহ্য সম্পর্কে বর্তমান সমাজ
যাতে জানতে পারে। তাছাড়া অনেক ঐতিহ্য গুলো দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। যা বর্তমান সমাজ এসব সম্পর্কে জানে না। আমাদের মত
অনেকে যদি এসকল ঐতিহ্যকে তুলে ধরে তা হলে এগুলো হারাতে পারবে
না।
এলাকাবাসীর পক্ষে গিয়াস উদ্দিন জানান, আমরা অনেকেই পালকি
দেখেছি কিন্তু বর্তমানের যুবক-যুবতীরা, ছেলে মেয়েরা পালকি
সম্পর্কে অবগত না বরপক্ষ আজকে পালকি এবং ঘোড়ার মাধ্যমে বিয়ে
সম্পন্ন করে। আমাদেরকে অনেক আনন্দ দিয়েছে এবং পুরনো ঐতিহ্যকে
তুলে ধরেছে। এটা সত্যিই অনেক ভাল হয়েছে।
বরের বাবা মুঠোফোনে জানায়, যে আমাদের পরিবার থেকে এ সিদ্ধান্ত
নেয়া হয়েছে আমার ১টি মাত্র ছেলে তাই আমি চেয়ে ছিলাম যে
গ্রামের কোন ঐতিহ্য তুলে ধরে আসার ছেলেকে বিয়ে করাবো। যার
মাধ্যমে বর্তমান সমাজ সবাই বুঝতে পারে যে পালকি প্রয়োজনীয়তা
আছে। আর সব মিলিয়ে সবাইকে অভাক করে দেয়ার জন্য এই আয়োজন
করা।
কর্ণের বাবা আজিজুর রহমান জানান, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরে
বরপক্ষ আমার মেয়েকে তুলে নিয়েছে এতে আমরা খুব আনন্দিত এবং বর
পক্ষের সকলকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা সবাই সত্যি বলতে অনেক খুশি
হয়েছি। তাছাড়া কখনই ভাবতেই পারিনি যে আমার মেয়েকে পালকিতে
দিয়ে তার স্বামীর বাড়িতে বিদায় দিতে পাড়বে।
সংস্কৃতিক প্রেমী সরকার আব্দুল আলিম ও আইয়ুব রানা জানান,
আজকের এঅনুষ্ঠান বর্তমান সমাজকে বুঝেয়ি দিতে পেরেছে গ্রাম
বাংলার ঐতিহ্য বিশেষ করে পালকি দিয়ে বউ তুলে নেয়া আবার বিভিন্ন
খেলাধুলা বিশেষ করে হা-ডুডু যা আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে
যাচ্ছে।এসব কিছু তুলে ধরা আমাদের দরকার।
কালিয়াকৈর পৌরসভা ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফারুক হোসেন জানান,
আমাদের মাঝে থেকে বিভিন্ন ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। যা সম্পর্কে
বর্তমানের সমাজের মানুষ গুলোই জানে না। আজকে এই বিয়ের
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বরপক্ষের এ আয়োজনের সকলে দেখলেন পালকি দেখলেন।
যা একটি শিক্ষনীয় বিষয়। আমি বরপক্ষকে আমার পক্ষ থেকে অসংখ্য
অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি এরকম একটি আয়োজনের ব্যবস্থা করার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *