
মারুফ সরকার, প্রতিবেদক :
শাহরাস্তি উপজেলার কৃতি সন্তান রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের বিজয়পুর গ্রামের মরহুম মমতাজ উদ্দিন ও আনোয়ারা বেগমের সন্তান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কৃতি ছাত্র আনোয়ার হোসেন খোকন বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে যুক্তরাজ্য প্রবাসী, তিনি স্বপরিবারে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে যিনি একজন দক্ষ রাজনীতিবিদ এবং একাধারে একজন আকর্ষণীয় তরুণ ব্যক্তিত্ব।
তিনি বাংলাদেশী জাতীয়তবাদের এক বিপ্লবী নেতা,বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে ইউরোপের সকল দেশে বিএনপির নেতা কর্মীদের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ ও উদারতা দিয়ে এক সাথে করে-বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার হাসিনা বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে সময়োপযোগী দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জোরালো ভূমিকা পালনে একজন দক্ষ-পরিশ্রমী ও নীতি আদর্শিক রাজনীবিদের সুনাম ও খ্যাতির উচ্চ আসনে উন্নীত করেন তাকে চাঁদপুর- ৫ (শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জ) সংসদ সদস্য হিসেবে ছাত্র-জনতা তাকে দেখতে চান। রাজনৈতিক মনোভাব ও ভালোবাসা দিয়ে বাংলাদেশ ও নিজ এলাকার উন্নয়নে সর্বাধিক ভূমিকা ও দায়িত্ব পালনে তিনি সচেষ্ট। করোনাকালীনসহ নানা দুর্যোগে শাহরাস্তি ও হাজীগঞ্জ বাসীর পাশে ছিলেন তিনি সব সময়। সুদুর লন্ডনে থাকলেও তিনি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর খোঁজখবর রাখতেন প্রতিমুহুর্তের। আর সেই কারণে চাঁদপুর-৫ নির্বাচনী এলাকায় তার গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি হয়েছে।
তরুণ ও বিপ্লবী এ নেতার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট- ১৯৮০ সালের জানুয়ারি মাসে সিলেট জেলার বালাগঞ্জ উপজেলা এম সি এন কে হাই স্কুল পরিদর্শনের সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাথে দেখা হয়।
১৯৮১ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ নিউ হোস্টেল ছাত্রাবাসের ছাত্রদলের সহ প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হন।অতপর শাহরাস্তি উপজেলা আহবায়ক নির্বাচিত হন।
শাহরাস্তি থানা ছাত্র দলের আহ্বায়ক ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এস এম হল) হলের ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। বর্তমান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ ও গুম হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী ৫১ সদস্য বিশিষ্ট্য কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক ছাত্রনেতা ফজলুল হক মিলন ও ডাকসুর সাবেক এজিএস ও সাবেক সংসদ সদস্য নাজিমউদ্দিন আলম কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য ছিলেন।
বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুনন্নবী সোহেল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ আন্তর্জাতিক সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে আন্তজাতিক সম্পাদকের বিদেশ পাড়িতে প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল ও সাবেক সংসদ সদস্য, কারাগারে নির্যাতিত হয়ে শহীদ হয়েছেন নাসির উদ্দিন পিন্টু কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
তন্মধ্যে শাহরাস্তি থানা ছাত্র কল্যান সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে জেলা ছাত্র কল্যান সমিতির সভাপতির দায়িত্ব ও পালন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য পাড়ি জামালে এখানে যুক্তরাজ্য ছাত্রদলের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। যুক্তরাজ্য পেশাজীবী দলেরও আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক ও ব্যারিষ্টার সালাম আহবায়ক কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তিতে এম এ মালিক ও কয়সর এম আহমেদ কমিটির সর্বকনিষ্ঠ সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। পুনরায় যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক ও কয়সর এম আহমেদ কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন।
২০১৬ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-ান্তর্জাতিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। তারপর দেশনায়ক আগামীর রাষ্ট্র নায়ক জনাব তারেক রহমান উওর আমেরিকা, দক্ষিন আমেরিকা, আফ্রিকা মহাদেশের সমন্বয়কের দায়িত্ব প্রদান করেন।
২০২৩ সালে পদোন্নতি পেয়ে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে আবারও দেশ-নায়ক জনাব তারেক রহমান ইউরোপ,উওর-দক্ষিন আমেরিকা, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ সহ মধ্যপ্রাচ্য ব্যতিত বহির্বিশ্বে সাংগঠনিক দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত হন তিনি। ৫ই আগস্টের পর তিনি এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার প্রবাসীদেরকে জাতীয়তাবাদী দলের প্রতি আস্থাশীল হওয়ার জন্য এবং বিএনপিকে প্রবাসে শক্তিশালী করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছেন। সেই সাথে চাঁদপুর-৫ আসনের সার্বিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। বিএনপির ঘাটি হিসেবে খ্যাত চাঁদপুর-৫ এ ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগ থেকে আব্দুর রব নির্বাচিত হয়েছিলেন, পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে আব্দুল ওয়াদুদ খান নির্বাচিত হয়েছিলেন, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে এম এ মতিন, ১৯৯৬ সালেও এম এ মতিন নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ থেকে রফিকুল ইসলাম নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে আবারও বিএনপি থেকে এম এ মতিন নির্বাচিত হন। ২০০৮ সাল থেকে ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর পর্যন্ত বিনা ভোটে রফিকুল ইসলাম নির্বাচিত ছিলেন।
২০০৮ সালে রফিকুল ইসলামের প্রতিদ্বন্দ্ব ছিলেন বিএনপি থেকে ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক এবং জামাত থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন মাহবুবুর রহমান। বর্তমানে চাঁদপুর-৫ আসনে বিএনপির দৃষ্টি রয়েছে আনোয়ার হোসেন খোকনের দিকে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ থেকে বিনা ভোটের এমপি রফিকুল ইসলাম বর্তমানে পলাতক রয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় এক জরিপে দেখা গেছে তরুণ এবং শিক্ষিতরা, ত্যাগী নেতাকর্মীরা আনোয়ার হোসেন খোকনের দিকে ঝুঁকে গেছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে উদ্যামী ও সাহসী জনবান্ধব নেতৃত্বের অধিকারী আনোয়ার হোসেন খোকনকে মনোনয়ন দিলে বিএনপি তাদের হারানো সিট ফিরে পাবেন বলে স্থানীয়রা মনে করেন। জামায়াতে ইসলাম থেকে চাঁদপুর-৫ ডা. আলম উদ্দিন। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মূখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী চাঁদপুর-৫ আসনে থেকে নির্বাচন করলে সে ক্ষেত্রে আনোয়ার হোসেন খোকনের সাথেই তার প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে বলে কেউ কেউ মনে করছেন।