উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের ভরসার স্থান ৫০ শয্যার উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এখানে ১৬ জন চিকিৎসকের বিপরীতে ৩ জন এবং ১০ জন জুনিয়র কনসালট্যান্টের বিপরীতে ১ জন রয়েছেন। উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালটিতে গাইনি, শিশু ও মেডিসিন, নাক, কান ও গলাবিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। এ ছাড়া ল্যাব টেকনিশিয়ানের তিনটি, অফিস সহায়ক ৫টি পদ ফাঁকা। ৩ জন ওয়ার্ড বয়ের বিপরীতে আছেন একজন, ৩৬টি নার্স পদের মধ্যে ৩৩ জন রয়েছেন এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী ৫ জনের মধ্যে আছেন একজন। হাসপাতালে দুজন আয়া থাকার কথা থাকলেও একজনও নেই। এছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন এবং ইউনিয়নে ৬ জন মিলে মোট ৮ জন উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদের মধ্যে ৬ জন রয়েছে। এসব উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দিয়ে বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগের রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ৫টি ইসিজি যন্ত্রের ৪টি বিকল হয়ে পড়ে আছে। একমাত্র সচল পুরাতন ইসিজি যন্ত্রটি জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের জন্য রাখা হয়েছে। ডিজিটাল আলট্রাসনোগ্রাম যন্ত্রটির প্রিন্টার নষ্ট। জরুরী প্রয়োজনে চিকিৎসকরা আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট কম্পিউটারে দেখে রোগ নির্ণয় করছেন। প্রিন্ট রিপোর্ট না পাওয়ায় সেটির কার্যকারিতা নিয়ে রোগীদের প্রশ্ন রয়েছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে হাসপাতালে সার্জারী চিকিৎসক না থাকায় সব ধরণের অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ। তবে জরুরী বিভাগে আসা রোগীদের ওয়ার্ড বয় ও উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারকে ফোঁড়া অপারেশন করতে দেখা গেছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা কেউ পরীক্ষণ যন্ত্র না থাকায় ফিরে যাচ্ছেন আবার কেউ কেউ বাইরে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করাচ্ছেন।
উলিপুর থেতরাই থেকে চিকিৎসা নিতে এসেছেন মোজাম্মেল হক(৬০)। তিনি জানান, হার্নিয়ার সমস্যা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছিলেন। বহির্বিভাগীয় রোগীর টিকিট করার পর জানতে পারেন সেখানে অপারেশন করার চিকিৎসক নেই। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তাঁকে সদরে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, ‘এতো বড় হাসপাতালে অপারেশন করার ডাক্তার নাই। গরীব মানুষ বেশি টাকা নিয়ে আসি নাই। বাসায় গিয়ে পরিবারের সাথে আলোচনা ও পরামর্শ করে ঈদের পর অপারেশন করাবো।’
উপজেলার ধরণীবাড়ি ইউনিয়নের মাঝবিল গ্রামের বাসিন্দা লুৎফর রহমান(৬৬) এজমা জনিত সমস্যায় পাঁচ দিন আগে ভর্তি হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন থেকে এজমায় শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। পরে পাঁচ দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হই। এখনো কাশতে কাশতে দম বন্ধ হয়া আসে। ডাক্তাররা ইসিজি করতে বলেছেন। এখানে(হাসপাতালে) ইসিজি হলে করলাম হয়। কিন্তু হাসপাতালের ইসিজি যন্ত্র নষ্ট। শরীর দূর্বল তাই বাইরের ক্লিনিকে যাইনি। মরি বাঁচি এই হাসপাতালেই থাকমো। আল্লাহ ভরসা।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মেহেরুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারী সংকটের কারণে রোগীদের সেবা পেতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। একজন ওয়ার্ড বয় জরুরী বিভাগে ফোঁড়া অপারেশন করতে পারে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি এখানের ভারপ্রাপ্ত আরএমও, ফুল আরএমও নই। তাই এ বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারবো না। আপনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সাথে কথা বলুন। তিনি সব উত্তর দিতে পারবেন।’