উপজেলার আবাদপুকুর এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, অফিসিয়াল বিভিন্ন কাজ করতে উপজেলা পরিষদে যেতে কিংবা জরুরী কোন রোগীকে উপজেলা এবং জেলা সদর হাসপাতালে নিতে হলে রেলগেইট পার হতে হয়। ফলে রেলগেইটে এসে যানজটে আটকে পড়ার কারণে অনেক রোগীকে মৃত্যুবরণও করতে হয়েছে। যাতায়াতের অধিকাংশ সময়ই সরু রেলগেইটে এসে যানজটের কবলে পড়তে হয়। আর ঈদের সময় এসে যানবাহনের চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ায় ঘন্টায় ঘন্টায় যানজটের শিকার হতে হচ্ছে। রেলগেইটের দুই পাশের মহাসড়ক ও সড়কে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও সরু রেলগেইটের কারণে তার কোন সুফল মিলছে না।
উপজেলা সদরের অটোভ্যান চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, সরু রেলগেইট বর্তমানে আমাদের গলার কাঁটাতে পরিণত হয়েছে। যখন ট্রেনের কারণে গেইট বন্ধ থাকে তখন দুই পাশে প্রায় কিলোমিটার সড়ক জুড়ে যানবাহনের জট লেগে যায়। বিশেষ করে সরু রেলগেইটের পাশ দিয়ে একজন মানুষ কিংবা সাইকেল ও মোটরসাইকেল চলাচলের কোন ব্যবস্থা না থাকায় যানজট আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এমন সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে দ্রুতই রেলগেইট সংলগ্ন এলাকা থেকে পরিত্যক্ত ভবন ও দোকানগুলো ভেঙ্গে রেলগেইটের সড়ক ও মোড় বড় করার কোন বিকল্প নেই।
রাণীনগর রেলস্টেশনের সহকারি মাস্টার আতিকুল ইসলাম বলেন, রাণীনগরের উপর দিয়ে দিনের বেলায় ব্রডগেজ ও মিটারগেজ মিলে ১৬টি ট্রেন আর রাতের বেলায় ১৪টি ট্রেন চলাচল করে। এছাড়া মালবাহী বিভিন্ন ট্রেনতো আছেই। বিশেষ করে দিনের বেলায় ট্রেন চলাচলের সময় ছোট্ট রেলগেইটটি অধিকাংশ সময়ই বন্ধ রাখতে হয়। এতে করে গেইট পার হওয়ার সময় ব্যস্ততম দুটি সড়ক ও মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। এই বিষয়টি আমরাও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানিয়েছি।
সান্তাহার রেলওয়ে বিভাগের উর্দ্ধতন উপ-সহকারি প্রকৌশলী আব্দুর রহমান মুঠোফোনে জানান, রাণীনগরের রেলস্টেশন ও রেলগেইটসহ আরো কয়েকটি রেলগেইট আধুনিকায়ন করার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত ভাবে আবেদন প্রেরণ করেছি। অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় কাজ শুরু করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রাকিবুল হাসান জানান, দুটি ব্যস্ততম সড়কের মাঝে সরু রেলষ্টেশন ও রেলগেট মোড় এই দুটি কারণে উপজেলাবাসীর দ্রুত চলাচলে প্রতিনিয়তই বিঘ্ন ঘটছে। অধিকাংশ সময় উপজেলার পশ্চিম প্রান্ত থেকে পূর্বপ্রান্তে যেতে রেলগেট এলাকায় এসে দীর্ঘ সময় ধরে যানজটের শিকার হতে হয়। এই দুটি মোড়কে প্রশস্তকরণ করে কিভাবে যানজট মুক্ত করা যায় সেই বিষয়ে রেল বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্রুতই যোগাযোগ করে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
নওগাঁ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রাশেদুল হক রাসেল জানান, রাণীনগরের ওই দুটি মোড় প্রশস্তকরণের মাধ্যমে আধুনিকায়ন করা খুবই জরুরী। প্রতিদিনই কেউ না কেউ যানজট নিয়ে ফোন করে। এছাড়া এক দিক থেকে অপর দিকের রাস্তার কোন অংশ দেখতে না পাওয়ার কারণে মাঝে মধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা। এমন সমস্যা থেকে উত্তোরণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন রেল বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে জায়গাটি আমাদের কাছে হস্তান্তর করলে আমরা রেলগেইট প্রশস্তকরণ কাজ শুরু করার প্রকল্প গ্রহণ করবো।