আজিজুর রহমান মুন্না সিরাজগঞ্জঃ
সিরাজগঞ্জে কৃষিতে নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও কৃষিতে কৃষি পরামর্শ সেবাঃ সম্ভবানা, বাস্তবতা ও করণীয় শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত।
বিএমজেড এর আর্থিক সহযোগিতা এবং ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফ ( WHH) এর কারিগরি সহযোগিতায় উত্তরণ এবং FIVD এর যৌথ উদ্যোগে “কৃষিতে নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও কৃষি পরামর্শ সেবাঃ সম্ভাবনা, বাস্তবতা ও করণীয় শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার (১৭মার্চ-২০২৫ খ্রিঃ) সকাল ১০ টা হতে দুপুর পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহিদ এ.কে. শামসুদ্দিন সম্মেলন কক্ষে উক্ত গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সন্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গণপতি রায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি সিরাজগঞ্জের উপ-পরিচালক আঃ জাঃ মুঃ আহসান শহীদ সরকার, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ এ,কে, এম আনোয়ারুল হক, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ শাহীনুর রহমান, জেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোহাম্মাদ হাবিবুর রহমান, কৃষি বিপণন কর্মকর্তা তানিয়া তিথি চৌধুরী, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কানিজ ফাতেমা প্রমুখ।
স্বাগত ও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, উত্তরণ সমন্বয়কারী – সম্পদ ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ ও অংশীদারিত্ব ফাতিমা হালিম আহমেদ।
RASWE প্রকল্পের ওভারভিউ এবং কি নোট পরবর্তী আলোচনা পরিচালনা করেন, ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফ (WHH), কৃষি অর্থনীতিবিদ বিশেষজ্ঞ ড. ফাতেমা নাসরিন জাহান।
কী নোট উপস্থাপক ছিলেন, ফ্রান্সিস অতুল সরকার। বৈঠকের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাখা করেন, প্রকল্প সমন্বয়কারী মোঃ নূরুল ইসলাম।
এ সময় গোলটেবিল বৈঠক উপস্থিত ছিলেন, এনজিও প্রতিনিধি, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ( সাবেক ইউপি সচিব) ইউপি সদস্য, কমিউনিটি সার্ভিস প্রোভাইডার, সিভিল সার্জন, সিভিল সোসাইটি, অর্গানাইজেশন প্রতিনিধি সহ উত্তরণ এবং এফআইভিডিবির কর্মীবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন, উত্তরণ গভর্নমেন্ট এবং সিভিল সোসাইটি অ্যাডভোকেসি সমন্বয়কারী মোঃ রফিকুল ইসলাম।
কী-নোট উপস্থাপক – ফ্রান্সিস অতুল সরকার বলেন, কৃষিতে নারীরা এখনও নানা চ্যালেঞ্জের সন্মুখীন হন, বিশেষ করে আর্থিক সহায়তা ও প্রযুক্তি জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা তাদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি জোরদিয বলেন, গ্রামীণ পরামর্শ সেবার জোরদারকরণ এবং সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করা হলে নারী কৃষকদের উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও, তিনি সরকারি সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি আহবান জানান, যেন, তারা নারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী নীতি ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেন যা তাদের কৃষি কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে।
প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, সরকার সকল ক্ষেত্রে জেন্ডার মেইনস্ট্রিমিং আনার জন্য বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছেন। নারীদের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি পরামর্শ এবং সেবা নিশ্চিত করা হলে তারা কৃষি ক্ষেত্রে আরও দক্ষ হয়ে উঠবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। ” সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রাইভেট সেক্টর সহ সকলে মিলে যদি একত্রে কাজ করা যায় তবেই নারীর ক্ষমতায়ন সম্ভব।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গণপতি রায় বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি আরও বলেন, সরকারের হাতে সকল ক্ষেত্রেই রয়েছে অদৃশ্যভাবে। প্রান্তিক পর্যায়ে গিয়ে সরকারের পাশাপাশি সকল পার্টনার অর্গানাইজেশন এবং প্রাইভেট অরগানাইজেশন যে কাজগুলি করছে তা নারীর ক্ষমতায়ন বেশ ভূমিকা রাখবে। তিনি উত্তরণকে ধন্যবাদ জানান। প্রান্তিক পর্যায়ে গিয়ে নারীদের কৃষি সেবা ও উন্নয়ন মূলক কাজে অংশ নেওয়ার জন্য এবং RAS4WE প্রকল্প হাতে নেওয়ার জন্যে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আঃ জাঃ মুঃ আহসান শহীদ সরকার বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে ৩০% নারীকে মাশরুম চাষ, সীড প্রসেসিং, সবজি প্যাকেজিং সহ বিভিন্ন বিষয়ে উপরে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। নারীরা ব্যবসা করলে অনেক পরিবার থেকে তা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে , ব্যবসার সুযোগ পায় না। তারাই জেন্ডার বৈষম্য করে। তাই পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরকেই আগে সচেতন করতে হবে এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। নারী কৃষকদের জন্য সরকার থেকে প্রাপ্ত কৃষক কার্ডের প্রসঙ্গে বলেন, যেসব নারীরা জমির মালিকনাধীন রয়েছেন এবং কৃষি কাজ করছেন তারা অবশ্যই কৃষি কার্ড পাবেন। নারীরা যেন কৃষি কাজ সঠিকভাবে করে আয়বৃদ্ধি করতে পারেরতার জন্য নারীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। জেন্ডার ইকুইটি নিশ্চিত করার জন্য তিনি নারী ও পুরুষদের Gender Morms, Attituted, Equality বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এই সম্মেলনে বিশেষজ্ঞ নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, কৃষিখাতে তাদের সম্পৃক্ততা, এবং আর্থিক অন্তভূক্তির জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, “নারীদের কৃষি উদ্যোক্তা হিসাবে গড়ে তুলতে হলে সহজ ঋণপ্রাপ্তি, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।
সম্মেলনের সমন্বয়কারী ফাতিমা হালিমা আহমেদ, ( সমন্বয়কারী – সম্পদ ব ্যবস্থাপনা, যোগাযোগ ও অংশীদারিত্ব, উত্তরণ) তিনি বলেন, ” আমরাও চাই, নারীরা কৃষিক্ষেত্রে আরও আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠুক। এই সম্মেলনে থেকে প্রাপ্ত সুপারিশ গুলো ভবিষ্যতে নীতি প্রণয়নে সহায়ক হবে। সম্মেলনে শেষ পর্যায়ে অংশ গ্রহণকারীরা একমত হন যে, -বাংলাদেশের কৃষিতে নারীদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে সরকারি -বেসরকারি অংশীদারিত্ব বাড়ানো জরু
রি।