আজিজুর রহমান মুন্না, সিরাজগঞ্জঃ
সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে স্মৃতিচারন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ, সিরাজগঞ্জের আয়োজনে,
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সকাল ১১ টায় সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদ মিলনায়তনে উক্ত অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজগঞ্জের বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ আজিজুর রহমান দুলাল, বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ শামসুল বারী, বিএনপি নেতা মোঃ আলমগীর হোসেন জুয়েল । অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আমিনুল ইসলাম। সন্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ সুলতান মাহমুদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম তালুকদার এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ সাইদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের আহবায়ক ছিলেন, কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক মোঃ হুমায়ুন খালিদ সদস্য ছিলেন পদার্থ বিভাগের অধ্যাপক এ.কে.এম রেজাউল হক সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আহসান হাবীব, বাংলা বিভাগের আবুল বাশার, ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কে.বি.এম.মাহবুব বিন জলিল, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ মঈন উদ্দীন। এসময় অনুষ্ঠানে কলেজের সকল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক, শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
আলোচক বীরমুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান দুলাল বক্তব্যে বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ এক বিভীষিকাময় ‘কালরাত’ নেমে এসেছিল এ দেশের মানুষের জীবনে। মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের ‘অপারেশন সার্চলাইট’ বাস্তবায়নে নেমে পড়ে। নিরস্ত্র বাঙালীদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মেতে ওঠে নারকীয় হত্যাযজ্ঞে।
২৫ মার্চের কালরাতে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে তিনি বলেন, ‘একাত্তরের মার্চের দিনগুলোতে বাংলাদেশ যখন আন্দোলনে উত্তাল, তখন ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় অসহযোগ আন্দোলনের মধ্যেই স্বৈরশাসক ইয়াহিয়া গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন। সেদিন মধ্যরাতে পাকিস্তানি সৈন্যরা ‘অপারেশন সার্চলাইট’ পরিচালনা করে ঘুমন্ত-নিরস্ত্র মানুষের ওপর ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞ চালায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগসহ সারা দেশে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হানাদার বাহিনীর অতর্কিত হামলায় শহীদ হন ছাত্র-শিক্ষক, পুলিশ ও সেনা সদস্যসহ হাজারো নিরপরাধ মানুষ। তাঁদের আত্মদানের পথ ধরেই দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা অর্জন করেছি কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।
‘স্বাধীনতা-পরবর্তী যে বাংলাদেশ আমরা চেয়েছিলাম, সে বাংলাদেশে পতিত স্বৈরাচারের শাসনামলে মানুষের কোনো মৌলিক অধিকার ছিল না।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার বীরত্বে জাতি স্বৈরাচারের অত্যাচার-নিপীড়নের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে। একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অন্তর্বর্তী সরকার মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে এগিয়ে যাক।