রাজারহাটে বস্তায় আদা চাষে বাড়ছে জনপ্রিয়তা

অর্থনীতি

এ.এস.লিমন, রাজারহাট(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ঔষুধি গুণ সমৃদ্ধ মসলা জাতীয় ফসলের মধ্যে আদা অন্যতম। বৈজ্ঞানিক নাম (জিংজিবার অফিসিনাল)। এ উপজেলায় বস্তায় আদা চাষ বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
অনেকেই বস্তায় আদা চাষ করে লাভবান হয়েছেন। রাজারহাট উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, আদা লাগানোর উপযুক্ত সময় মার্চ-এপ্রিল মাস বেঁলে দো-আঁশ মাটিতে আদার ফলন  ভালো হয়। বস্তায় আদা চাষের সুবিধা হচ্ছে যাদের আবাদি জমি নাই তারাও ইচ্ছা করলে  বসতবাড়ীর আশে-পাশে, আঙ্গিনায়, সুপারি বাগান কিংবা অন্যান্য পতিত জমিতে বস্তায় আদা চাষ করতে পারে। এক একটি বস্তায় ১টি করে বীজ আদা রোপণ করে ২ থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত আদা  উৎপাদন করা সম্ভব। বীজ লাগানোর সময় মাটি শোধন করে নিলে আদার মড়ক লাগার সম্ভবনা কমে  যায়। রাজার হাট সদর ইউপির পুটিকাটা গ্রামের কৃষক ইন্দ্রকমল রায় (৫৫) বলেন, কয়েক বছর থেকে আমি স্বল্প পরিসরে বস্তায় আদা চাষ করে আসছি, তা দিয়ে আমার পরিবারের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে, তালতলা গ্রামের বিধান চন্দ্র রায় (৩৫) বলেন, গত বছর ৫০টি বস্তায় আদা চাষ করে সফল হয়েছি। এবারে শতাধিক বস্তাতে আদা লাগিয়েছি, পরিবারের চাহিদা মেটানোর  পরেও বাড়তি আয়ের আশা করছি। মেকুরটারী গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তার ব্যাপারীর পুত্র মোঃ  সাজেদুল ইসলাম (৪০) পেশায় কলেজ শিক্ষক হওয়া সত্তে¡ও বিভিন্ন সময় কৃষি কাজ করে এলাকায় সুনাম অর্জন করেছেন। এই মৌসুমে তিনি অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি বস্তায় আদা চাষ করেছেন। তিনি জানান, নিচু জমিতে গত মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় আদা নষ্ট হয়ে যায়। এবারে আমি কৃষি অফিসের পরামর্শে বস্তায় আদা লাগিয়েছি দিন দিনে চারা গুলো  পরিপক্ক হচ্ছে, আমার স্বপ্ন ডানা মেলতে শুরু করেছে। দুধখাওয়া গ্রামের কৃষক আলহাজ্ব মোঃ ফজলুল হক মন্ডল (৬০) এ বছর ৬৫ শতক জমির পাশাপাশি বস্তায় কয়েকটি চারা লাগালে চারাগুলো  বেশ ভালো গজিয়েছে। উপজেলার মেকুরটারী বøকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দিলদার হোসেন  জানান, মাঠ পর্যায়ে বস্তায় আদা চাষের ব্যাপারে আমরা কৃষকদেরকে সব সময় উদ্বুদ্ধ করছি। এ  বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা কৃষি অফিসার শম্পা আকতার জানান, আদা যেহেতু মসলা জাতীয়  ফসল প্রত্যেকেই যদি বসতবাড়ীতে কিংবা পরিত্যক্ত জায়গায় বস্তা পদ্ধতিতে কিছু কিছু আদা চাষ করেন তাহলে পরিবারের চাহিদা মিটিয়েও বাড়তি উপার্জন করা সম্ভব। আমাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা গুলোতে আমরা এ ব্যাপারে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। এমনকি আগামী অর্থ  বছরে আদা এবং গোল মরিচ এর উপর আমার নিজ উদ্যোগে প্রকল্প গ্রহনের জন্য চেষ্টা করছি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *