আশুলিয়ায় নয়নজুলিসহ ৮টি খাল প্রভাবশালীদের দখলে-লাখ লাখ মানুষের ভোগান্তি!

জাতীয়

হেলাল শেখঃ ঢাকার আশুলিয়ায় নয়নজুলি খালসহ সরকারি ৮টি খাল প্রভাবশালীদের দখলে-এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নিরব ভুমিকায় থাকার কারণে এসব খাল উদ্ধার হচ্ছে না বলে স্থানীয়দের দাবি। একদিন বৃষ্টি  হলে রাস্তায় হয় হাটু পানি, সেই সাথে পোশাক কারখানার ময়লা আবর্জনাজনিত পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের চরম ভোগান্তি হচ্ছে। অপরিকল্পিত বাসা বাড়ি ও ঘর নির্মাণ করায় রাস্তা নিচু করে তৈরি। বাসা বাড়িসহ  শিল্পকারখানার নোংরা পানি ও বর্জ্যে পরিবেশ দূর্ষণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নিরব ভুমিকায় থাকার দাবি করেন  এলাকাবাসী। বিভিন্ন রাস্তা এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। মাঝে মধ্যে ভাঙ্গা রাস্তায় পড়ে গিয়ে আহত হয় অনেক মানুষ বৃহস্পতিবার (৩ জুন ২০২১ইং) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আশুলিয়ার জামগড়া হইতে  পুরাতন আশুলিয়া তুরাগ নদী পর্যন্ত নয়নজুলি খাল ৭কি. মি.। নলীর খাল, ক্যান্টনমেন্ট হইতে বংশাই নদী পর্যন্ত ৬ কি. মি.।  ডগরতলীর খাল, ডগরতলী হইতে বারল খাল পর্যন্ত ৪ কি. মি.। বারল খাল, চক্রবর্তী হইতে বংশাই নদী পর্যন্ত ৬ কি. মি.। কন্ডার খাল,  কন্ডা হইতে সুগন্ধী পর্যন্ত ৩ কি. মি.। গাজীবাড়ি খাল, নন্দনপার্ক হইতে সুবেদী পর্যন্ত ৫ কি. মি.। ভারারিয়ার খাল, শিমুলিয়া  হইতে নলাম পর্যন্ত ৪ কি. মি. গাজারিয়ার খাল, ইয়ারপুর হইতে মনসস্তোষ তুরাগ পর্যন্ত ৫ কি. মি.। সর্বমোট প্রায় ৪০  কিলোমিটার খালগুলো প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। প্রশাসন ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে এসব খালের পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। বাসা বাড়ির ময়লা পানি রাস্তায় ছেড়ে দেওয়াসহ বর্জ্যরে দুর্গন্ধে মানুষ নাক ধরে রাস্তায় চলাচল করেন। দূষিত পানিতে  এলাকায় বসবাসকারী মানুষগুলো চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছেন।

শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় হাইওয়ে রোড থেকে শুরু করে শাখা  রোডগুলোর বিভিন্ন রাস্তার বেহাল অবস্থা- সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তায় হাটু পানি হয়। সেই সাথে উচু বাসা বাড়ির পানি রাস্তায় ফেলার  কারণে তা মানুষের শরীরে লেগে চর্মরোগসহ নানারকম রোগ হয়। এতে পোশাক শ্রমিকসহ লাখ লাখ মানুষের ভোগান্তির  যেন শেষ নেই। ঢাকা জেলার প্রধান শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকসহ লাখ লাখ  মানুষ রাস্তা দিয়ে চলা ফেরা করার সময় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এই সমস্যার কারণ হচ্ছে প্রভাবশালীদের কাছে বেশিরভাগ  মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছেন, তাই কেউ অপরাধ করলে কারো বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে পারেন না, এর কারণেই সরকারি  নয়নজুলি খালসহ প্রায় ৮টি খাল দখলমুক্ত করতে পারছেন
না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা (প্রশাসন)। একদিকে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তায়  হয় হাটু পানি, শ্রমিকসহ সর্বসাধারণ রাস্তায় চলাচলের সময় ময়লা পানি ছিটে গিয়ে পা থেকে মাথা পর্যন্ত কাপড়ে  লেগে নানারকম সমস্যার সৃষ্টি হয়। এখানে পোশাক কারখানার হাজার হাজার যানবাহন, মালবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন গাড়ি  চলাচল করে কিন্তু রাস্তা খারাপ থাকলেও কারো কোনো মাথা ব্যথা নেই। আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের জামগড়ার বাগবাড়ি  রোড, হিয়ন মোড় থেকে পাকা রাস্তা মান্নান মীর এর বাড়ি পর্যন্ত, বটতলা থেকে গফুর মন্ডল স্কুল রোড পর্যন্ত, অন্যদিকে  জামগড়া থেকে শাহজাহান মার্কেট রোডের মোল্লা বাড়ি মোড় পর্যন্ত, অপরদিকে ধামসোনা ইউনিয়নের ভাদাইল,  পাবনারটেকসহ বিভিন্ন রাস্তার বেহাল অবস্থা, এর মধ্যে আবার বাসা বাড়ির টয়লেটের মল, ময়লা পানি রাস্তায় ফেলে দেয়ায় মানুষের আরও  বেশি সমস্যার সৃষ্টি হয়। কোভিড-১৯ করোনা মহামারি থেকে বাঁচতে রাস্তার পানি ও জ্বলাবদ্ধতা দুরিকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা  গ্রহণ করতে এই এলাকার বসবাসকারী জনসাধানণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। উক্ত ব্যাপারে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড মেম্বার আনোয়ার মৃধার কাছে  জানতে একাধিকবার তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয় কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি, তার এলাকায় নয়নজুলি খালটি  প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। এলাকায় কয়েকজন ভোটার বলেন, ১নং ওয়ার্ড মেম্বার এর সিএনজি পাম্প আছে শিমুলতলা,  সেখানে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে আশুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন মাদবর এর কাছে এ বিষয়ে  জানতে আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি, এরপর একাধিকবার তার বাসায় গেলেও তিনি বাসা থেকে বাহিরে  আসেননি। চেয়ারম্যানের লোকজন বলেন, তিনি কারো সাথে দেখা করেন না, সন্ধায় আসেন, সন্ধায় যাওয়ার পর গেটে থাকা  দারোয়ান বলেন, চেয়ারম্যান ২য় তালায় থাকেন। এখন চেয়ারম্যান সাহেব নিচে নামবেন না, তাকে ডাকাও নিষেধ আছে। এরপর  চেয়ারম্যানের মোবাইল ফোনে কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অনেকেই বলেছেন, আশুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের অনেক অনিয়ম  দুর্নীতি আছে তাই তিনি কোনো গণমাধ্যম কর্মীর সামনে আসেন না। এ বিষয়ে আশুলিয়া ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান হাজী মোঃ হেলাল উদ্দিন মাদবর বলেন,  আমি কি বলবো, আশুলিয়ার রাস্তাগুলো বেহাল
অবস্থা কিন্তু এ কাজে সবার সহযোগিতা দরকার, সংশ্লিষ্ট যারা দায়িত্বে আছেন তাদের  উচিৎ মানুষের সমস্যাগুলো দেখা। তিনি  দাবি করেন, বর্তমান সরকার উন্নয়নমূলক অনেক কাজ করছে, করোনা মহামারির মধ্যেও সরকার বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট, সেতু নির্মাণ কাজ করছে, কিন্তু আশুলিয়ার নয়নজুলি খালসহ যেসকল খাল, বিল ও নদী  প্রভাবশালীদের দখলে আছে তা দখলমুক্ত ও উদ্ধার করা জরুরি।


আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা’র অর্থ সচিব ও দৈনিক চৌকস পত্রিকার  ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মোহাম্মদ কলিম উদ্দিন বলেন, আমার বাড়ি আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকায়, আমি জানি নয়নজুলি খালটি  প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে কিন্তু সরকারি কর্মকর্তা ও এলাকার জনপ্রতিনিধি এবং দলীয় নেতা কর্মীরা চাইলে শুধু নয়নজুলি খাল নয়  সবগুলো খাল উদ্ধার করা সহজ। তিনি আরও বলেন, ডাঃ এনামুর রহমান, এমপি, ঢাকা-১৯ ও মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, দুর্যোগ  ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, ঢাকা। তিনি চাইলে এসব সরকারি খাল উদ্ধার করাসহ পরিবেশ রক্ষা করা সহজ হবে। ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডাঃ  এনামুর রহমান বলেছেন, সরকারি খাল ও নদ নদী রক্ষায় সরকার কাজ করছে, নয়নজুলি খালটিসহ সাভার আশুলিয়ার খালগুলো  দখলমুক্ত করতে সকলের সহযোগিতা দরকার, যারা সরকারি খাল দখল করে রেখেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি  বলেছেন। তিনি বলেন, জনস্বার্থে যেকোনো কাজে আমি জনগণের পাশে আছি থাকবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *