আশুলিয়ায় প্রতারণার নতুন ফাঁদ: ফিটিংবাজি ছিনতাই বাড়ছে- ভুক্তভোগীরা দিশেহারা!

ক্রাইম রিপোর্ট

হেলাল শেখঃ ঢাকার আশুলিয়ার জিরাবো (ঘোষবাগ বাগানবাড়ি) ইয়ারপুর এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং সন্ত্রাসীরা মাদক ও জুয়া খেলার টাকা জোগাড় করতে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, খুন চাঁদাবাজি, অপহরণ, ফিটিংবাজিসহ
বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করছে। সঠিক সময় সঠিক কাজ শুরু করেছে বর্তমান সরকার, অভিযানে গ্রেফতার হচ্ছে অনেকেই।
শুক্রবার দুপুরে জিয়াউল নামের এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, তাকে এক নারীকে দিয়ে ফিটিং দিয়ে গত রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি বাড়িতে ডেকে নিয়ে দেশী অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ২০ হাজার ৩০০টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে চাঁদাবাজ
ফিটিংবাজরা। মোবাইল ফোনে তার পরিবারের কাছে আরও মোটা অংকের টাকা দাবি করে, দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় তাকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ করেন। জানা যায়,আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ জুয়ার আড্ডা বা ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন অপরাধীদেরকে আটক করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ অভিযান চালাচ্ছেন। এতে মানুষের মধ্যে কিছুটা হলেও শান্তি ফিরে আসছে। ভুক্তভোগীরা জানায়, প্রায়ই জুয়া খেলা চলে বাসা বাড়িতে, সেই সাথে বিভিন্ন মাদকের কারবার ও দেহ ব্যবসা। আর জুয়া, মাদকের টাকা জোগাড় করতেই এসবের সাথে জড়িতরা এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ফিটিংবাজি, অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে। ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার ও ডিএমপি কমিশনারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও দলীয়
নেতাদের অনেকেই বলছেন যে,এসব আর চলতে দেয়া হবে না। আবার কেউ কেউ বলছেন, যারা এখন এসব বন্ধ করতে ব্যস্ততা দেখাচ্ছেন, এতোদিন তারা কোথায় ছিলেন? এতোদিন কি করেছেন? দেশের অর্থ বিদেশে পাচার ও মানুষের সর্বনাশ করে ভিটা মাটি কেড়ে নিয়ে এখন কি লোক দেখানো হচ্ছে? সুত্র জানায়, মাদক সন্ত্রাস, জুয়া ও দেহ ব্যবসা থেকেই বাড়ছে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড। ক্যাসিনো ও ডিজিটাল চায়না নাগরিক কর্তৃক জুয়া বন্ধ হলেও বর্তমানে ক্যারামবোর্ড নামের ৪ কোনা কাটের বক্সের উপরে কৌশলে অবাধে চলছে জুয়া। এখন দিনরাত ২৪ ঘন্টার মধ্যে বেকার যুবকরা ১৬ ঘন্টা এই জুয়া খেলে থাকে বলে অনেকেই জানান।
বিশেষ করে সাভার ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন থানা পুলিশ এবং উপর মহলে শত শত বার জানালেও এসব বন্ধ করতে পারেনি তারা। চলমান ঘটনা সংবাদপত্রের শিরোনাম হচ্ছে। অভিযান চালানোর কারণে মানুষের মধ্যে শান্তি বিরাজ করছে। এতে লাখ লাখ মানুষ ধন্যবাদ জানাচ্ছেন র‌্যাব  বাহিনীকে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ও ঢাকা জেলার সাভার, আশুলিয়া এবং গাজীপুর, উত্তরা, মিরপুরসহ প্রায় সারা দেশের জেলা উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে উঠতি বয়সের ছেলে মেয়ে মিলিত কিশোর গ্যাং সৃষ্টি হয়েছে। মাদক সন্ত্রাস, জুয়া ও দেহ ভোগ করতে টাকা জোগাড়ের জন্য বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করছে জড়িতরা। এসব বদ নেশায় নষ্ট হচ্ছে অনেকেরই জীবন। এসবের টাকা জোগার করতে জড়িতরা বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ, চাঁদাবাজি,
প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করছে।
র‌্যাব-১ এর বিশেষ অভিযানে এরই মধ্যে ভাই-ব্রাদার্স গ্রæপের ৬ সদস্য, ছিনতাইকারী, ডাকাত ও হত্যা মামলার আসামীদেরকে আটক করেছেন তারা। বর্তমানে যারা বেশি (ক্রাইম) অপরাধমূল কর্মকান্ড করছে তারা বেশিরভাগই কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্য বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জানান। এর সাথে যোগ হয়েছে প্রেমঘটিত বিষয়ঃ ১২ থেকে ১৮ বছরের ছেলে মেয়ে, ছাত্র ও ছাত্রীর হাতে মোবাইল থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হচ্ছে,তাই তারা খুব সহজেই অপরাধমূলক কর্মকান্ড সংঘটিত করতে পারছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ২৮ আগস্ট ২০১৯ইং কিশোর গ্যাং কর্তৃক আশুলিয়ার জামগড়া উত্তর পাড়া থেকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ৯ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে অপহরণ করে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন, এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানায় মামলা করার জন্য ওই ছাত্রীর বাবা বাদি হয়ে অভিযোগ করেন, থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আসামী পক্ষ ও বাদী পক্ষকে থানায় হাজির হতে বলেন, বিষয়টি
রহস্যজনক। এর পরে র‌্যাব-১ এর একটি বিশেষ টিম ডিজিটাল প্রযুক্তি মোবাইল ট্র্যাকিং এর মাধ্যমে মোঃ আরমান হোসেন (২০) কে আটক করেন এবং ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। আটককৃত আরমান হোসেন, জামগড়ার আমিনুর ও আকলিমা বেগমের ছেলে বলে র‌্যাব জানায়। গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ইং আশুলিয়ার জামগড়ার বটতলা এলাকা থেকে ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী (১১) বছরের এক শিশুকে অপহরণ করে রাজবাড়ি এলাকায় নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে নারী লোভী কিশোর গ্যাং এর সদস্য, এরপর আশুলিয়ার শাহজাহান মার্কেট এলাকা থেকে তাকে আটক করেন স্থানীয়রা এবং ভিকটিম ছাত্রীকে উদ্ধার করেন। ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০ইং মেয়েটির স্বাস্থ্য পরিক্ষা করানো হলে, ধর্ষণের প্রমান পাওয়া গেছে বলে তার মা ও বাবা জানান। উক্ত আটককৃত আসামী হলো, কুষ্টিয়া জেলার কমলাপুর এলাকার মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিবের ছেলে মোঃ হৃদয় হোসেন (১৯), হৃদয় শাহজাহান মার্কেট এলাকার স্থানীয় মামুনের সালক, অভিযোগ রয়েছে অভিযুক্ত হৃদয় কিশোর গ্যাং এর সদস্য, হত্যা মামলার আসামী, এর আগেও একাধিক মেয়ের সর্বনাশ করেছে সে এবং একটি মেয়েকে ধর্ষণ করার পর বিয়ে করে ৩ মাস রেখে তাকে তালাক দেয় বলে স্থানীয়রা জানান। হৃদয় বিভিন্ন অপরাধের সাথে
জড়িত আছে বলে শাহজাহান মার্কেট এলাকার লোকজন জানায়। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ, চাঁদাবাজি, খুনসহ বিভিন্ন অপরাধ করছে কিশোর গ্যাং এর সদস্যরা। মাদক, জুয়া ও দৈহিক চাহিদার টাকা জোগাড় করতেই কম বয়সের ছেলে
মেয়েরা (ক্রাইম) অপরাধমূলক কর্মকান্ড করছে বলে অভিমত অনেকেরই।
এদিকে সাভার ও আশুলিয়ায় যুবলীগের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক জি কে শামীমকে আটক করেছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) গত (২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ইং) শামীমকে নিকেতনের ১১৩ নম্বার বাসা থেকে আটক করা হয়। র‌্যাব কর্মকর্তা লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেমসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী
বাহিনীর সদস্যরা জানান, অপরাধী সে যেই হোক না কেন তাদেরকে আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। র‌্যাবের কর্মকর্তাদের দাবি মাদক সন্ত্রাস, জুয়া খেলা ও দেহ ব্যবসার কারণে অপরাধমূলক কর্মকান্ড বাড়ছে, মাদক সেবনকারীরা মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। পুলিশ জানায়, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার মানুষ আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় কাজের জন্য আসেন কিন্তু যারা বেকার থাকে তারা মাদক ও জুয়া খেলার সাথে জড়িত হয়ে এসবের টাকা জোগাড় করতে চুরি, ছিনতাই ও ফিটিংবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে থাকে, আর অপরাধ করে সহজে পালিয়ে যায়, ভুল ঠিকানা দেওয়ার কারণে তাদেরকে আটক করা কঠিন হয়। পুলিশ জানায়, উক্ত বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে ধারাবাহিক ভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। পর্ব ২।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *