দলীয় গ্রুপিং ও চাঁদাবাজি- অস্ত্র নিয়ে ভয়ংকর সংঘর্ষে আতঙ্কে জনগণ!

ঢাকা

হেলাল শেখঃ দেশের প্রায় জেলা ও উপজেলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ সহযোগী সংগঠনে নেতাদের সাথে নতুন মুখ দেখা যাচ্ছে। তাদের দলীয় গ্রুপিং ও চাঁদাবাজি এবং স্বার্থে আঘাত লাগলেই অবৈধ অস্ত্র  নিয়ে ভয়ংকর সংঘর্ষে আতঙ্কে থাকে জনগণ। তারা অনেকেই আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, জাতীয়  শ্রমিকলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের রাজনৈতিক নেতা হওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের মধ্যে  অনেকেই বিএনপি ও যুবদলের নেতা কর্মী আর কিশোর গ্যাং মাদক সন্ত্রাসীদের দিয়ে মিছিল সমাবেশ করায় বলে  তারা অপরাধ করেও ছাড় পেয়ে যাচ্ছে। এতে আওয়ামীলীগ সরকারের বদনাম হচ্ছে বলে ত্যাগী নেতাসহ সচেতন  মহলের অভিমত। বিশেষ করে অপরাধীদের দাপটে দলের ত্যাগী নেতারাসহ জনসাধারণ দিশেহারা হয়ে  পড়েছেন। সূত্র জানায়, অপরাধ করে মামলার ভয়ে যুবলীগ ও সহযোগি সংগঠনে যোগদান করেছেন অনেকেই কিন্তু নতুনভাবে  হামলা মামলায় জড়িয়ে পড়ছেন দলীয় নেতা কর্মীরা। তাদের কর্মকান্ড নিয়ে জনগণের নানারকম প্রশ্ন, দলের  নেতাদের মাঝে বাড়ছে জটিলতা। এতে দলীয় প্রধানসহ ত্যাগি নেতাদের বদনাম হচ্ছে বলে অনেকেরই অভিমত। যুবলীগ ও  সহযোগি সংগঠনের অনেকেই বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার হচ্ছেন, দেশ ও জাতির স্বার্থে ভালো কাজ করতে হবে,  দলের স্বার্থে সবার পরিবর্তন হওয়া দরকার বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, কিছু যুবলীগ নেতা কর্মী তারা নিজেরা অপরাধমূলক কর্মকান্ড করছে,  আবার অপরাধীদের পক্ষে কথা বলছেন, এতে দলের বদনাম হচ্ছে বলে অনেকেই জানান। অভিমতঃ তাদেরকে  দলে যারা নিয়েছেন তারাই বড় অপরাধী। কিছুদিন ধরে দেখা যাচ্ছে যে, জুয়া, মাদক, দেহ ব্যবসার সাথে কথিপয় যুবলীগ  নেতা জড়িত, এসবের টাকা জোগার করতেই প্রায় প্রতিটি এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অপহরণ,  খুনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করছে তারা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিছু লোককে  আটক করলেও অন্যরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। যেকোনো ব্যক্তির সাথে বিবাদ করছে, আর মারামারি লাগলেই  তাদেরকে অস্ত্র নিয়ে বেড় হতে দেখা যায়। উল্লেখ্য অনলাইন পত্রিকাসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়েছে-কেউ জিরো থেকে  হিরো, কেউ কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে রাজনীতি করেই, সেই সাথে আরও অনেক নেতা কর্মীদের  বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং মাদক সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের তথ্য রয়েছে। অনেকেই দাবি করেন  সঠিকভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সহজ হবে আর যারা অপরাধী নয় তারা  হয়রানির শিকার হবেনা। উল্লেখ্য, গত ২১ অক্টোবর ২০১৯ইং দিবাগত রাত সাড়ে ১১ টার দিকে আশুলিয়া থানা  যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক ও স্বনির্ভর ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ মঈনুল ভুইয়াকে গ্রেফতার  করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ জানায়, মঈনুলের বিরুদ্ধে জমি দখল ও চাদঁদাবাজির অভিযোগ  রয়েছে। এই এলাকায় এরকম নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ থাকলেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না  বলে অনেকেই জানান। আশুলিয়া এই যুবলীগ নেতার বিষয়ে জানতে চাইলে, আশুলিয়া থানার (এসআই) আব্দুস  সালাম বলেন, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে মঈনুল ভুইয়াকে গ্রেফতার করা হয়, পরের দিন সকালে তাকে আদালতে পাঠালে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের দাবি-দেশের অনেক যুবলীগ নেতা  ও সহযোগি সংগঠনের নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে,  তাদেরকে  নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে , এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। অপরাধী সে যেই হোক না কেন তাদেরকে গ্রেফতার  করা হবে। চলমান ঘটনা, আশুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা ফারুক আহমেদ ও শাহিন পালোয়ান বাহিনীর  বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে সংঘর্ষ কাঠগড়া এলাকার মানুষ আতংকের মধ্যে রয়েছে বলে অনেকেই জানান। এ দিকে একদিনে  আশুলিয়ায় ২-৩ জনের লাশ উদ্ধার হওয়ার ঘটনা আশুলিয়ায় নতুন কিছু নয়। এ শুধু একটি এলাকা উল্লেখ করা হলো।  আশুলিয়ার আশপাশের এলাকা সাভার, ধামরাই, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, শ্রীপুর, টঙ্গী, উত্তরা, মিরপুর, গাবতলী  এলাকায়ও প্রায় একই অবস্থা ঢাকা জেলার আশুলিয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নবাগত কিছু দলীয় নেতা কর্মীরা ভালো  রাস্থা নষ্ট করে ড্রেন করছে। এরকম অনেক ঘটনায় হামলা, মামলার ঘটনা ঘটছে। পুলিশ এক দুইজনকে আটক  করলেও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি। সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বেড়েই চলেছে বলে অনেকেই জানান। তাই জনস্বার্থে শান্তি  শৃঙ্খলার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সকল শ্রেণি  পেশার মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *