বাংলা চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি ববিতার জন্ম দিন আজ

সারাদেশ

বিনেদন নিউজ:
আজ ৩০ জুলাই যেসকল বাঙালি সূর্যসন্তানের জন্মদিন তাঁদের অন‍্যতম একজন হলেন বহু পুরস্কারে ভূষিত প্রখ্যাত অভিনয়শিল্পী, বাংলা চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি ফরিদা আক্তার (পপি); যিনি রূপালী পর্দায় ববিতা নামেই খ্যাতির শিখরে আরোহন করেছেন।

ববিতার পৈতৃকনিবাস যশোর শহরে হলেও তাঁর জন্ম হয়েছিল বাবার কর্মস্থল বাগেরহাট শহরে। সরকারি কর্মকর্তা নিজামুদ্দীন আতাউর ও চিকিৎসক বি জে আরা দম্পতির কন্যা ববিতার অন্য দুই বোনও জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী। তাঁরা হলেন বড় বোন কোহিনুর আক্তার চাটনী (সুচন্দা) ও ছোট বোন গুলশান আক্তার (চম্পা)। ববিতার শৈশব ও কৈশোরের প্রথমার্ধ কেটেছে যশোর শহরের সার্কিট হাউজের সামনে রাবেয়া মঞ্জিলে। তিনি পড়াশোনা করেছেন যশোর দাউদ পাবলিক বিদ্যালয়ে।

সেখানে অধ্যয়নকালে বড়বোন সুচন্দার চলচ্চিত্রে প্রবেশের কারণে তাঁদের পরিবার ঢাকায় চলে আসে। পুরনো ঢাকার গেন্ডারিয়ার বাড়িতেই কাটে ববিতার কৈশোরের বাকি অংশ। এখানে গেন্ডারিয়া স্কুলে ভর্তি হয়ে পড়াশুনা শুরু করেন। এ সময় বড়বোন সুচন্দা এবং তাঁর স্বামী নন্দিত চলচ্চিত্র নির্মাতা ও পরিচালক জহির রায়হানের উৎসাহে রূপালী পর্দায় পদার্পন করেন ববিতা। চলচ্চিত্রে অত্যন্ত ব্যস্ত হয়ে পড়ায় প্রাতিষ্ঠানিক সনদ অর্জন করতে পারেননি তিনি। তবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজেকে শিক্ষিত করে তোলেন ববিতা। দক্ষতা অর্জন করেন ইংরেজিসহ কয়েকটি বিদেশি ভাষায়। নিজেকে পরিমার্জিত করে তোলেন একজন আদর্শ শিল্পী হিসেবে।

তিন বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে ববিতার বড়বোন কোহিনুর আক্তার চাটনী (সুচন্দা) ও ছোটবোন গুলশান আখতার (চম্পা)- দু’জনই অত্যন্ত জনপ্রিয় চলচ্চিত্রাভিনেত্রী, বড়ভাই শহীদুল ইসলাম ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (তড়িৎ প্রকৌশলী), মেজভাই ইকবাল ইসলাম এ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (বৈমানিক) এবং ছোটভাই ফেরদৌস ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। এছাড়া বর্তমান সময়ে দুই বাংলার জনপ্রিয় চলচ্চিত্রাভিনেতা রিয়াজ তাঁদের চাচাতো ভাই।

প্রসঙ্গত: সুচন্দার স্বামী, মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের দেড় মাসের মাথায় ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি ঢাকার মিরপুরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ জহির রায়হানের হাত ধরে চলচ্চিত্র জগতে পদার্পন করেছিলেন ববিতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *