জনপ্রতিনিধি ও অনেক নেতার নামে মামলা হওয়ায় ইউপি নির্বাচন নিয়ে জটিলতা!

রাজনীতি

হেলাল শেখঃ ঢাকার আশুলিয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতা কর্মীদের নামে একাধিক মামলা হওয়ায় ইউপি নির্বাচন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেকেই। তাদের অনেকের ছবি ও নাম জড়িয়ে ভিন্নভাবে সংবাদ প্রকাশের কারণে নানারকম জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার ইয়ারপুর ইউনিয়ন যুবলীগের দুই নেতার পূর্বশক্রতা ও বিরোধের জেরে মারধর এর ঘটনায় আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য মোশারফ হোসেন মুসা’র নাম জড়িয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এর আগে আশুলিয়ার ইয়ারপুর তার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এমনই অভিযোগ করেন। মুসা বলেন, গত ২ জুন ইয়ারপুরের দক্ষিণপাড়া এলাকায় ইউনিয়ন যুবলীগের সাহিত্য সম্পাদক পারভেজ কাজীকে নিজ বাসায় ফেরার পথে অতর্কিত হামলা করে কালাম নামের আরেক যুবলীগ নেতা। এসময় পারভেজের হাতে দা দিয়ে কুপিয়ে ও মারধর করে আহত করেছে অপরপক্ষ।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা ওইদিন রাতেই আশুলিয়া থানায় অভিযোগ করতে গেলে তার অভিযোগ নেওয়া হয়নি। পরের দিন সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় আরেক যুবলীগ নেতার ইন্ধনে আশুলিয়া থানায় গিয়ে মোশারফ হোসেন মুসাকে প্রধান বিবাদী করে কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগীর বাবা কামাল কাজী, বিষয়টি রহস্যজনক ও পাল্টাপাল্টি সংবাদ প্রকাশ এর কারণে দলীয়ভাবে নেতা কর্মীদের মাঝে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের অনেকে নেতা দাবি করেন।
অন্যদিকে আশুলিয়া থানা যুবলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠে, আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য মোঃ সালাউদ্দিন সরকারসহ তার ভাই নাদিম ও নাঈম সরকারের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়, আশুলিয়ার নরসিংহপুরের বুড়িপাড়া রোড়, ইথিকেল গামেন্টর্স থেকে নরিজা এক্সসরিস পর্যন্ত রাস্তার দুইপাশের ফুটপাতে এককালীন মোটা অংকের টাকা নিয়ে দোকান বসিয়ে প্রতিদিন-প্রতি দোকান থেকে ৫০-১০০ টাকা চাঁদা নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য মোঃ সালাউদ্দিন সরকারের কাছ জানতে চাইলে তিনি বলেন, যুবলীগের কোনো নেতা কর্মী চাঁদাবাজি করে না। আমি বা আমার ভাই কখনো চাঁদাবাজির সাথে জড়িত ছিলাম না, এখনও জড়িত নেই। তিনি আরও বলেন,গণমাধ্যম কর্মী সাংবাদিক ভাইদের কাছে আমার অনুরোধ-আপনারা সরেজমিনে এসে দেখেন, আসলে কারা প্রকৃত চাঁদাবাজ। এ বিষয়ে আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহবায়ক মোঃ কবির হোসেন সরকারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
এরআগে আশুলিয়া থানার ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মজিবর রহমান শাহেদ এর ছবিযুক্ত করে তার নামে সংবাদ প্রকাশ হয় যে, তার নিজ বাড়ি থেকে র‌্যাব-৪ এর অভিযানে ২জন ডাকাত আটক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আওয়ামীলীগ নেতা মজিবর রহমান শাহেদ গণমাধ্যমকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। আমার বাড়িতে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক আইডিতে ‘মতিউর রহমান মতিন’ এর সূত্রঃ তিনি লিখেছেন যে, আমি মোঃ
মতিউর রহমান মতিন, সাধারণ সম্পাদক ধামসোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে কিছু ফেক আইডি থেকে, আমি তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলতে চাই মতিউর রহমান মতিন কেমন মানুষ সেটা সাভার-আশুলিয়া ধামসোনার মানুষ খুব ভালো করে জানেন, তাই এই অপপ্রচার বন্ধ করুন, আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। গত ১৯ এপ্রিল ২০২১ইং তিনি এই লেখাগুলো ফেসবুকের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। সচেতন মহল অভিমত প্রকাশ করেন যে, আশুলিয়ায় এ কোন রাজনীতি শুরু হলো? কেন এতো অপপ্রচার করা হচ্ছে? আওয়ামীলীগ ও যুবলীগ নেতা কর্মীরাই কি সব অপরাধ করছে? সঠিকভাবে তদন্তের দাবি জানান, সচেতন মহল। বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল ও সুশীল সমাজ এবং চা স্টল থেকে শুরু করে সারাদেশে একটি শব্দ ভেসে উঠেছে। কারা পাবে মনোনয়ন?

ঢাকার প্রধান শিল্পাঞ্চল আশুরিয়ায় দেশের প্রায় ৬৪ জেলার মানুষ কাজ কর্মের সন্ধ্যানে আসেন, বেশিরভাগ লোক কাজ কর্ম করলেও কিছু লোক বেকার থাকার কারণে এলাকায় মাদক ও জুয়া খেলার সাথে যুক্ত হয়ে যায়। মাদক ও জুয়ার টাকা জোগার করতেই এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, প্রতারণা,অপহরণ, খুনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে। এদের অনেকেই বাঁচার জন্য দলীয় নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে চলে বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউ আবার দলের শীর্ষ নেতার সাথে সেলফি তুলে ফেসবুকে দিয়ে রাখে, এমনকি এমপি মন্ত্রী’র সাথেও ছবিযুক্ত রয়েছে অনেকেরই। অনেকেই বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করের প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনলে হয়ত এমন ঘটনা কমে যেতে পারে। এ দিকে আশুলিয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, চাঁদাবাজি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা রয়েছে।
র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক জানান, অপরাধী সে যেইহোক না কেন, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, বাংলাদেশ সংবিধান অনুযায়ী আমরা কেউ কর্মকর্তা নই। সকলেই আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় আমাদের বেতন ভাতা হয়। কাজেই জনবান্ধব কর্মচারী হিসেবে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংঙ্গে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ ছাড়াও উপর মহলের পুলিশ অফিসার জানায়, আশুলিয়ায় দলীয় কিছু
নেতার বিরুদ্ধে ঝুট ব্যবসা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, চাঁদাবাজি ও জমি দখলের অভিযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে, তা গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছেন, দোষী ব্যক্তি সে যেইহোক না কেন তাদেরকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে। তবে সচতেন মহলের দাবি যে জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচনের আগে বা পরে পাওয়া যায় না, তাদের নির্বাচনে আসার দরকার নেই। যে নেতাদের দলে রাখলে দলের বদনাম হয় তাদেরকে রাজনীতি থেকে অধিকার বঞ্চিত করা দরকার। এতে দল ও সরকার এবং দেশ ও জাতিরমঙ্গল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *