আশুলিয়ায় ও তুরাগপাড়ের বেড়িবাঁধে কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি!

ক্রাইম রিপোর্ট

হেলাল শেখঃ ঢাকার আশুলিয়ায় ও উত্তরা এবং তুরাগপাড়ের বেড়িবাঁধে পুলিশের দালাল কর্তৃক প্রায় কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর মিরপুরের দারুসসালাম এলাকার ছোটদিয়াবাড়ী এলাকার বেড়িবাঁধে অবৈধভাবে ঘাট বসিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। এসব এলাকার রাস্তার দুইপাশে বাজার বসিয়ে মোটা অংকের টাকা চাঁদাবাজি করছে। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ইং সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, সরকারি কোনো প্রকার  ইজারা ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় একটি চক্র ও থানা পুলিশ কর্তৃক এই চাঁদাবাজি করে আসছে। চক্রটি শুধু বেড়িবাঁধ থেকেই চাঁদা নিয়ে ক্ষ্যন্ত হয়নি, কার্গো জাহাজ ভেড়ানোর জন্য তৈরি করেছে ল্যান্ড ষ্টেশনও। সেখানে মালবাহী ট্রাক লোড- আনলোডের ক্ষেত্রেও ইচ্ছেমতো চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডবিøউটিএ) ল্যান্ড ষ্টেশন থাকলেও অদৃশ্য কারণে এই চক্রটির তৈরি ল্যান্ড ষ্টেশনই ব্যবহার করা হচ্ছে। এদিকে আশুলিয়ার নবীনগর, পল্লীবিদ্যুৎ, বাইপাইল থেকে জিরানী বাজার পর্যন্ত এবং ভাদাইল, ইউনিক বাজার, শিমুলতলা, জামগড়া চৌরাস্তা-ছয়তলা, নরসিংহপুর, জিরাবো, পুরাতন আশুলিয়া পর্যন্ত  রাস্তার দুইপাশে ফুটপাত দখল করে স্থাপনা তৈরি করে দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে প্রভাবশালীরা। সেখান থেকে থানা পুলিশকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা উঠিয়ে দেয় মার্কেটের মালিক পক্ষের লোকজন। স্থানীয়দের অনেকেরই অভিযোগ, সাভার, আশুলিয়ার সড়ক ও মহাসড়কে এবং  তুরাগপাড়ের বেড়িবাঁধের রাস্তার উপরের দুপাশে বিভিন্ন দোকান, লেগুনা ষ্ট্যান্ড বসিয়েও চাঁদাবাজি করে আসছে প্রভাবশালী  এই চক্রটি। এই চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। বছরের পর বছর এ  এলাকার মানুষজনকে একপ্রকার জিম্মি করেই সব অবৈধ কর্মকান্ড করে আসছে তারা। এই চাঁদাবাজ চক্রের সাথে কিছু  জনপ্রতিনিধিও জড়িত আছে বলে অনেকেই জানায়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাজধানীর গাবতলী মাজার রোড হয়ে দারুসসালাম থানা রোড। থানার সামনে দিয়ে হয়ে ছোট সরু রাস্তা দিয়ে কিছু দূর গেলেই তুরাগ নদীর পাড়। এলাকাটির নাম ছোটদিয়াবাড়ী । তুরাগ নদীর এ পাড়ের অংশ ছোট দিয়াবাড়ী উপরের অংশ কাউন্দিয়া। এ পারের অংশের বাম দিকে গাবতলী আর ডান দিকে বেড়িবাঁধ রাস্তা। যা আশুলিয়া ও উত্তরার দিকে চলে গেছে। তুরাগের বাঁধঘেষা ছোট দিয়াবাড়ী মোড়টিকে পুঁজি করেই চক্রটি মূলত বিশাল চাঁদাবাজির ক্ষেত্র গড়ে তুলেছে। দেখা যায়, বাঁধ সংলগ্ন রাস্তাটি বেশ চওড়াই কিন্তু দুপাশে দখলের কারণে এটি ছোট হয়ে এসেছে। দুপাশের অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ছোট বড় শত শত দোকান। দারুসসালাম রোড থেকে বাঁধে উঠার সংযোগ সড়কের দুপাশের রাস্তা দখল করে বাঁশের আড়ৎ দেওয়া হয়েছে এককালীন লাখ টাকা, পরে ১৫/২০ হাজার টাকার বিনিময়ে এটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দোকানিরা বলেন, তারা জায়গাটি ভাড়া নিয়েছেন হাজি জহিরের কাছ থেকে। তারা বলেন, এককালীন হিসেবে প্রায় লাখ খানেকের মতো টাকা দিয়েছেন আর প্রতি মাসে ১০ হাজারের মতো টাকা ভাড়া দেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গণমাধ্যমকে হাজী জহির মোবাইল ফোনে বলেন, তিনি এখন অসুস্থ, এই বলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, এখন এ বিষয়ে কথা বলতে পারবেন না। এ ব্যাপারে গণমাধ্যমকে নৌপরিবহন মন্ত্রী খালেদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি নজরে আসেনি আমাদের। আমরা দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেব। সাভার বাস ষ্ট্যান্ড থেকে রাস্তার পাশে দোকান বসিয়ে চাঁদাবাজি করছে। আশুলিয়া থানাধীন নবীনগর, পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা, বাইপাইল ও ভাদাইল, জিরানী, এবং বাইপাইল থেকে ইউনিক বাজার,  শিমুলতলা, জামগড়া চৌরাস্তা, চৌরাস্ত  থেকে মীর বাড়ি রোড, জামগড়া থেকে ছয়তালা বেরুণ, নরসিংহপুর, জিরাবো ষ্ট্যান্ড, পুরাতন আশুলিয়া পর্যন্ত রাস্তার দুপাশ দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করে দোকান বসিয়ে একই ভাবে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি করছে স্থানীয় প্রভাবশালী চাঁদাবাজরা। দোকানিরা জানায়, প্রতি দোকান থেকে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা মাসিক চাঁদা দিয়ে সবাইকে ম্যানেজ করেই তারা ব্যবসা করছেন। উক্ত বিষয়ে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও রহস্যজনক ভাবে প্রশাসন নিরব ভুমিকায় থাকার কারণে চাঁদাবাজি বন্ধ হচ্ছে না। উক্ত এলাকায় প্রতি মাসে প্রায় কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি করছে বলে সূত্র জানায়। আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জামান এর সাথে যোগাযোগ  করে তাকে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে সাভার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) সাজ্জাদ গণমাধ্যমকে বলেন, রাস্তায়  যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছেন। রাস্তার দুপাশের ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো ও চাঁদাবাজির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেখবেন বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *