আশুলিয়ায় যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী’র গাড়ি কেলেঙ্কারি ও নারী নিয়ে প্রশ্ন!

ক্রাইম রিপোর্ট

বিশেষ প্রতিনিধিঃ ঢাকার আশুলিয়া থানা যুবলীগের সভাপতির পদ নিতে গিয়ে গাড়ি কেলেঙ্কারি ও নারী ভুয়া সাংবাদিক এবং মাদক
ব্যবসায়ী এক নারীকে নিয়ে নানারকম অভিমত প্রকাশ। অর্ধ কোটি টাকার গাড়ি নিয়ে নানারকম প্রশ্ন উঠেছে রাজু দেওয়ানের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৪সেপ্টেম্বর ২০২১ইং জানা গেছে,ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানা যুবলীগের সভাপতি পদ নিতে যুবলীগের প্রেসিডিয়ামের এক সদস্যের
ছেলেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের একটি গাড়ী দেওয়া নিয়ে নানারকম অভিযোগ ও প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। এ নিয়ে অনলাইন ও বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় তা ভাইরাল হয়। জানা যায়, আশুলিয়া থানা যুবলীগের সভাপতি পদের আশ্বাসে জিরাবো এলাকার রাজু দেওয়ান নামের এক ব্যক্তি নিজের ভাইয়ের কাছ থেকে নিয়ে ওই গাড়িটি দেন প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু নাসিম পাভেলের ছেলেকে। তবে পদ নিয়ে দেওয়ার শর্তে নয় গাড়িটি কিনে নিয়েছেন বলে দাবী করছেন যুবলীগ নেতা।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য হওয়ার পর থেকে আবু নাসিম পাভেল সাভারের স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। গত কয়েক মাস যাবৎ নিজের বাড়িতে একাধিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজনও করেন তিনি। এসব অনুষ্ঠানে সাভারের যুবলীগের অনেক বিতর্কিত ও বহিস্কৃতসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীরাও সেখানে তার সাথে অংশ নিতে দেখা যায়। সেই সাথে স্থানীয় কমিটিতে নিজের জায়গা করে নেওয়ার আশায় অনেকেই যোগাযোগ করতে থাকেন তার সাথে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সময়
প্রেসিডিয়াম সদস্যের বাড়িতে আয়োজিত সকল অনুষ্ঠানেও পদ প্রার্থী বিভিন্ন নেতাকর্মীদের উপস্থিত চোখে পড়ার মতো দেখা যায়।
এমনই একজন আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার রাজু দেওয়ান। একসময় ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও পরে ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন তিনি। জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলেও তিনি এখন আশুলিয়া থানা যুবলীগের
সভাপতির পদপ্রার্থী। এর কারণেই নিয়মিত যাতায়াত করছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু নাসিম পাভেল এর বাসায়। এই সভাপতির পদটির
আশায় নিজের ব্যবহারকৃত প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের গাড়িটিও দিয়ে দিয়েছেন প্রেসিডিয়াম সদস্যের ছেলেকে। অনেকেরই অভিমত
বাড়ি, গাড়ি, নারী দিয়ে যুবলীগের পদ পদবি পাওয়া যাবে না।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় যুবলীগের নেতা কর্মীরা জানান, রাজু দেওয়ান গত কয়েকমাস যাবৎ যুবলীগ নেতা পাভেল এর
বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত করছেন, আর সবসময় তিনি সাদা রঙের ঢাকা মেট্রো-ঘ ১৫-৭৪৩৮ নং গাড়িটি নিয়েই যুবলীগ নেতার বাড়িতে আসেন।তবে গত এক মাস যাবৎ তার উক্ত গাড়িটি ওই যুবলীগ নেতার বাড়িতেই রয়েছে। অনেকেই শুনতে পারেন যে, আশুলিয়া থানার সভাপতি পদের আশায় তিনি ওই গাড়িটি যুবলীগ নেতার ছেলেকে দিয়েছেন। এ দিকে গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। ওই যুবলীগের নেতার বিরুদ্ধে পদ দেওয়ার আশ্বাসে বিভিন্ন আর্থিক সুযোগ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যমকে আরেক যুবলীগ কর্মী বলেন, মূলত আবু নাসিম পাভেল ভাই সদ্য বিলুপ্ত হওয়া ঢাকা জেলা কমিটির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক পদে ছিলেন। বর্তমানে আবার তিনি ঢাকা জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী। বলা হচ্ছে, ভাইকে সভাপতি করতে পারলে জেলা কমিটির হাতেই এইসব থানা কমিটি করার দায়িত্ব থাকবে। সে কারণে অনেকেই কমিটিতে যেন নিজের জায়গা করে নিতে পারে সেজন্য তাদের সাথে যোগাযোগ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করছেন তারা। আর
এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ওই যুবলীগ নেতা বিভিন্ন পদ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অনেকের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার পায়তারা করছে
বলেও অনেকেই জানান। ২০১৪ সালে ওই নেতা নিজের রিভালবার দিয়ে দশ বছরের এক স্কুল ছাত্রীর পায়ে গুলি করেন, তবে ওই সময় মিস ফায়ারে স্কুল শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলেও দাবি করেন ওই নেতা। এ ছাড়াও সাভারের মজিদপুর এলাকায় এক যুগেরও বেশি সময় আগে মাত্র কয়েক শতাংশ জমি কিনে বাড়ি করলেও রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে আরও ২০ শতাংশেরও বেশি জমি দখল করে সীমানা প্রাচীর গড়ে তুলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর আগে আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের জিরানী এলাকায় মাদক কারবারী হালিমাকে আটক করতে গেলে র‌্যাবের সদস্যদের কাছে পাভেল এর সাথে তার ভালো সম্পর্ক আছে বলে পরিচয় দেয় ওই মাদক ব্যবসায়ী।
এ বিষয়ে রাজু দেওয়ান গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী। তবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছেন। এছাড়াও
গাড়িটি তিনি পদের জন্য দেননি বলেও দাবি করেন। আশুলিয়া থানা যুবলীগের সক্রিয় সদস্য অনেকেই বলেন, রাজু দেওয়ান বিএনপির সাবেক
সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন দেওয়ানের আপন চাচাতো ভাই। অনেকেই অভিমত প্রকাশ করে বলেন, রাজু দেওয়ানরা রাতে বিএনপি আর দিনে
আওয়ামীলীগ বা যুবলীগ। সুযোগ সন্ধানী রাজু দেওয়ান ভোল পাল্টে ভোলানাথ হতে চায় এটা কেমন কথা? আর বর্তমান যুবলীগের আশুলিয়া
থানায় যারা ত্যাগী নেতা আছেন, তাদেরকে বাদ দেওয়া ঠিক হবে না। বিএনপি’র নেতাদের সাথে বন ভোজনেও একই মঞ্চে আনন্দ উল্লাস- উচ্ছ¦াসে যোগ দেন রাজু দেওয়ান ও তার ভাই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, রাজু দেওয়ান যুবলীগের পদ চাচ্ছেন বিএনপি দলকে
সুসংগঠিত করার জন্য। রাজু দেওয়ানের ভাই ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন দেওয়ান মূলত দাবার গুটি
হিসেবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন রাজু দেওয়ানকে দিয়ে। পদ পদবি পাওয়া মুখ্য বিষয় নয়, বিএনপিকে সাপোর্ট করতে এবং নেতা কর্মীদের
সহযোগিতা করতে যুবলীগের মতো সংগঠনের পদ পাওয়ার জন্য রাজু দেওয়ানসহ উঠে পড়ে লেগেছেন বিএনপি সমর্থক অনেক নেতা।
ত্যাগী নেতা কর্মীরা অনেকেই বলেন, বছরের পর বছর ধরে সাজানো বাগান আশুলিয়া থানা যুবলীগ সংগঠনটি নষ্ট করতে দেওয়া হবে না। আমরা
মাঠে আছি, থাকবো ইনশাআল্লাহ। কোনো অপশক্তিই যুবলীগের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে যুবলীগের ক্ষতি করতে পারবেনা। শীর্ষ নেতাদের দভাবে যুবলীগের কমিটি টাকায় বিক্রয় হবেনা। দেবতার পূজা করে কোনো পদ পদবি পাওয়া যাবেনা। যারা রাজনীতির মাঠে হামলা, মামলার শিকার হয়েও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, তাদেরকে পদ পদবি পাওয়ার অধিকার আছে। আর যারা সেলফি নেতাদের পদ পদবি পাওয়ার অধিকার নেই বলে অনেকেই অভিমত প্রকাশ করেছেন। এর আগে ইয়ারপুর ইউনিয়নের বুড়ির বাজার এলাকায় ভুয়া সাংবাদিক নদীকে র‌্যাব-১ এর বিশেষ শাখার সদস্যরা আটক করতে গেলে সেখানে রাজু দেওয়ান তার পক্ষ নিয়ে ছাড়াতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়, প্রশ্ন ওই ভুয়া নারী
সাংবাদিকের সাথে তার কি সম্পর্ক?। এরকম একাধিক ভুয়া সাংবাদিকসহ চাঁদাবাজ, জমি দখলের বিষয়ে রাজু দেওয়ান এর বিরুদ্ধে অনেক
অভিযোগ রয়েছে।
যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু নাসিম পাভেল গণমাধ্যমকে বলেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যে তথ্য দেওয়া হচ্ছে, এছাড়াও
রাজু দেওয়ানের ভাইয়ের কাছ থেকে গাড়িটি কিনে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে কতো টাকার বিনিময়ে কেনা হয়েছে গাড়িটি
এমন প্রশ্নের উত্তর চাইলে তিনি না বলে তার সাথে গণমাধ্যম কর্মীকে দেখা করার কথাও জানান। কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী
মাইনুল হোসেন খান নিখিল গণমাধ্যমকে বলেন, গাড়ির বিষয়টি তার জানা নেই। তবে পদের আশ্বাস দিয়ে গাড়ি নেওয়ার লিখিত অভিযোগ
দায়ের করা তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। এ দিকে থানা পুলিশ জানান, আশুলিয়া থানা যুবলীগের
কিছু নেতা কর্মীর ব্যবহার খুবই খারাপ, অনৈতিক কর্মকান্ড করার অপরাধে এক এক করে কয়েকজনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। র‌্যাব জানায়, যুবলীগ বা আওয়ামী লীগের যেই হোক না কেন অপরাধ করলে তাদেরকে আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *