ব্যাঙের ছাতার মতো যেখানে সেখানে ফার্মেসী ও ক্লিনিক-ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণহীন!

স্বাস্থ্য

সাইফুল ইসলাম জয় (হেলাল শেখ)ঃ দেশের প্রায় প্রতিটি এলাকায় যেখানে-সেখানে ব্যাঙের ছাতার মতো ফার্মেসী দোকান ও ক্লিনিক দিয়ে জমজমাট ব্যবসা। ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণহীন। একদিকে ভেজাল ওষুধ অবাধে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ওষুধের দোকানে রোগী দেখা হচ্ছে। ভুয়া ডাক্তারের চিকিৎসা বিপদজনক, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অভিযান চালিয়ে কিছু ভুয়া ডাক্তারকে আটক করে
জেল জরিমানা করলেও আদালত থেকে জামিনে এসে আবার সেই যা তাই করছে রোগী ভুক্তভোগীদের সাথে ভয়ংকর প্রতারণা।
জীবন রক্ষাকারী ওষুধের ভেজাল করা হচ্ছে, সেই ওষুধ সেবন করলে রোগমুক্ত না হয়ে আরও কঠিন ও ভয়ংকরভাবে রোগ বৃদ্ধি হয় বলে অনেকেই জানান, নানারকম ওষুধের নাম নিজেরাই বলেন ক্রেতারা, কিছু বললেই বিক্রেতাগণ আইনের বাণী শোনায়। বেশিরভাগ রোগী ও ওষুধ ক্রেতা ওষুধের দোকানে বা ফার্মেসীতে গিয়ে ওষুধ বিক্রেতাকে ওষুধের নাম বলেন যে, এই ওষুধ দেন, বা ওই ওষুধ দেন, মনে হয় ক্রেতাই বড় ডাক্তার। ওষুধ প্রশাসন নিরব ভুমিকায় থাকার কারণে বেশিরভাগ ওষুধ ব্যবসায়ী তাদের মন মতো ওষুধের দাম নিয়ে থাকেন, সাধারণ ক্রেতা দাম জানেন না, বা বুঝতে পারেন না কোন ওষুধের কত দাম বা মূল্য। ওষুধের পাতার গায়ে মূল্য বা দাম লেখা নেই, শুধু বক্সে মূল্য লেখা থাকে বলে অনেকেই জানান।
মানুষ অসুস্থ্য হলে যে, ওষুধ কিনে খাবেন তারও উপায় নেই, জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণহীন, চিকিৎসাবিহীন অনেক মানুষের মৃত্যু হয়। রোগে শোকে মানুষ ওষুধ খায় সুস্থ হওয়ার আশায়, কিন্তু তারও উপায় নেই, ভেজাল সংমিশ্রণের ফলেপ্রতিনিয়তই সেই ওষুধই মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ভেজাল বিরোধী অভিযান চলছে সারা দেশে, তবুও কোনো ভাবেই
বন্ধ হচ্ছে না ভেজাল ওষুধের কারবার, নতুন নতুন কৌশলে তৈরি করছে ভেজাল ওষুধগুলো, সেই সাথে বেশিরভাগ ফার্মেসী বা ওষুধের
দোকানদার বিভিন্ন ওষুধের দাম বেশি নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে ভালোমানের ওষুধ উৎপাদনে বাংলাদেশের সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী। সুত্রমতে, বর্তমান বিশ্বের ১২২টি দেশে
বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে। দুঃখের বিষয়ঃ বিদেশে ভালোমানের ওষুধ রফতানি হলেও নিজ দেশেই চলছে ভেজাল ওষুধের রমরমা ব্যবসা।
কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার লোভে ভেজাল ওষুধ তৈরি করে তা বিক্রি করছে, এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত থেকে
পুরো ওষুধ শিল্পটাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে কিছু দুষ্টু প্রকৃতির অসাধু ব্যবসায়ীরা। অল্প পরিশ্রমেই অধিক মুনাফা
অর্জন হয় বলে এই অসাধু চক্রের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। ওষুধ প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে প্রায় প্রতিটি এলাকার
বাজারেও ঢুকে পড়ছে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ও নকল ওষুধ। এই প্রাণঘাতী ভেজাল ও নকল ওষুধের ফলে একদিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন
রোগী,অন্যদিকে ভোক্তারা, অপরদিকে খুব অল্পতেই আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যাচ্ছে অনেকেই।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের যথাযত পদক্ষেপ ও নিয়মিত অভিযানের অভাবে এই অসাধু চক্রগুলো ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। মনগড়া
ডিজাইন ও দৃষ্টিনন্দন মোড়কে এসব ওষুধ দেখে খুব সহজেই প্রতারিত হয় ভোক্তারা। এভাবে নকল-ভেজাল ও নি¤œমানের ওষুধ বাজারে
বিক্রি হতে থাকলে নকলের ভিড়ে আসলটাই হয়ত হারিয়ে যেতে বসবে। ‘জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ অনুযায়ী ওষুধের মান
নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি কর্তৃপক্ষ (এনআরএ) গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় মন্ত্রীসভায়, যার দ্রæত বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। যথাযথ
কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তত্বাবধান ও অসাধু চক্রগুলোকে আইনের আওতায় আনার পরই হয়তো আমরা নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ওষুধ
শিল্পের আশা করতে পারি। পরিশেষে সারাদেশে ভেজাল ও নকল ওষুধ সেবনে আর যেন কোনো জীবন না ঝরে অকালে মৃত্যু না হয় আর
যেন কোনো ভোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সে তাগিদে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি নজরদারি ও হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল।
একদিকে ওষুধের দোকানে গিয়ে কোন ওষুধের কত মূল্য ক্রেতা তা জানে না, সেই সাথে কোনটি আসল আর কোনটি ভেজাল তা
দেখে চেনা দায়। সারাদেশে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও পাড়া মহল্লায় যেখানে-সেখানে ব্যাঙের ছাতার মতো ওষুধের
দোকান, কোন ওষুধ কোন রোগের কাজ হবে তা অনেকেই জানেন না। ওষুধ নিয়ে এই জটিলতা থেকে মানুষকে বাঁচাতে হলে
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে, সবাইকে সচেতন হতে হবে। আসন্ন শীতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও
মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে পারে, এই রোগ থেকে বাঁচতে হলে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। জানা গেছে, বেশিরভাগ
প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র ঠিক নেই। সরকারি আইনের তোয়াক্কা না করে চিকিৎসা সেবা করা হচ্ছে, এখন ঘরে ঘরে কথিত ডাক্তার,
এই কারণে আরও জটিলতা বাড়ছে। উক্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দাবি-অভিযান অব্যাহত আছে, অভিযোগ পেলে দ্রæত ব্যবস্থা
নেওয়া হবে। এই প্রতিবেদন ধারাবাহিক ভাবে চলবে। পর্ব ১।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *