আশুলিয়ায় একটি ইউপি’র ৮জন চেয়ারম্যান প্রার্থী-‘কে পাবেন নৌকার টিকেট’?

রাজনীতি

হেলাল শেখঃ ঢাকার আশুলিয়ার ৫টি ইউনিয়নের একাধিক সাবেক চেয়ারম্যান মেম্বারসহ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী
সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী অনেকেই আসন্ন ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
প্রচারণা চালাচ্ছেন। শুধু ইয়ারপুর ইউনিয়নেই ৮জন চেয়ারম্যান প্রার্থী-কে পাবেন নৌকার টিকেট এই নিয়ে চলছে, জল্পনা-
কল্পনা।
উল্লেখ্য, প্রার্থীরা হলেন,সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান ইয়ারপুর ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ
ভুঁইয়া (মাষ্টার), ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মজিবুর রহমান (শাহেদ) আশুলিয়া থানা যুবলীগের
আহŸায়ক কবির হোসেন সরকার,বিএনপি’র (স্বতন্ত্র) দেলোয়ার সরকার, মঞ্জু দেওয়ান, কাদের দেওয়ান, আল-কামরান, আকবর হোসেন
মৃধা। আর মেম্বার প্রার্থীর কোনো হিসাব নেই বললেই চলে।
জানা গেছে, ঢাকা-১৯ আসনের এমপি-দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাঃ এনামুর রহমান, আশুলিয়ার ৫টি ইউনিয়নের
চেয়ারম্যান ও থানা আওয়ামী লীগের আহŸায়ক ফারুক হাসান তুহিন,থানা যুবলীগের আহŸায়ক কবির হোসেন সরকার,
ছাত্রলীগের সভাপতি, জাতীয় শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক সানি ভুঁইয়া, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী সহযোগী
সংগঠনের সকল নেতাকর্মীদের আশুলিয়ার জামগড়া আব্বাসিয়া মার্কেটের এক বিল্ডিংয়ের ছাদের নিচে উপস্থিত করেছেন
আশুলিয়া থানা যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন আহমেদ ভুঁইয়া, তিনি চেয়েছেন দলের সবাই
ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে এই বিশেষ
উদ্যোগ নেওয়া নিয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র আস্থাভাজন ব্যক্তি ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
ডাঃ এনামুর রহমান সুমন আহমেদ ভুঁইয়া’কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ধন্যবাদ জানান, আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের আহŸায়ক
ফারুক হাসান তুহিন, ধন্যবাদ জানান যুগ্ম আহŸায়ক সাইফুল ইসলাম চেয়ারম্যান ধামসোনা ইউপি। ধন্যবাদ জানান, সাভার
উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন খান। অনেকেই জানান, আশুলিয়া থানা যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতা
কর্মীদের অনেকেই দলীয় শীর্ষ নেতাদের কথা শুনছেন না, ইউপি নির্বাচনে অনেকেই প্রার্থী হওয়ার জন্য কাজ শুরু করেছেন।
সূত্র জানায়, ওই দিন শনিবার (২১ আগস্ট ২০২১ইং) উক্ত জামগড়ায় বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলে। ঢাকার
আশুলিয়ার জামগড়া আব্বাসিয়া মার্কেটের ৩য় তলায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন
ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাঃ এনামুর রহমান, তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় দলে সদস্য সংখ্যা বাড়াতে হবে। ২১ আগস্ট বিকেলে
আশুলিয়ার জামগড়ায় থানা আওয়ামীলীগ আয়োজিত ২১আগস্ট ভয়াল গ্রেনেড হামলার ১৭তম শোক-বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা
সভা ও দোয়া মাহফিলে যোগ দিয়ে ডাঃ এনামুর রহমান প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেছেন যে,
স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধের পরাজিত শক্তিরা জাসদ, কমিউনিস্ট পার্টি, মাওলানা ভাসানী ও সিরাজ শিকদারের ন্যাপে যোগ দিয়ে
দেশে অনাচার ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিলো। একইভাবে এখনও তারা দলের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে আওয়ামী লীগকে ধবংস করার চেষ্টা করে
দেশে অস্থিরতা তৈরি করছে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭৫ সালে স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীরা যেভাবে
আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করতে চেয়েছিল সেইভাবেই তাদের উত্তরসূরীরা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে
ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা করে। তাদের ওই হামলায় বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা করা হয়। ওই সময় বোমা হামলায় প্রায় এক হাজারের অধিক নেতা কর্মী আহত হন।
তিনি আরও বলেন, পরিবারিকভাবে আওয়ামীলীগ পরিবারের সদস্য, মুক্তিযুদ্ধাদের সন্তান, যারা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার সঙ্গে
রাজনীতি করেছেন তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দলকে সংগঠিত করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও শেখ হাসিনার
ভক্তদের দলে ভেড়াতে হবে। অপশক্তির ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় দলের সদস্য সংখ্যা বাড়াতে হবে। নেতা কর্মীদের সংগঠিত করে দলের শক্তি
বাড়াতে হবে। তবেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে ও সার্থক রাষ্ট হবে। ওই সময় ভয়াবহ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িত ও দোষীদের
বিচারের উল্লেখযোগ্য অংশ হিসেবে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে পাঠ করে শোনান প্রতিমন্ত্রী। পরে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায়
নিহতদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক
মঞ্জুরুল আলম রাজিব, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন চৌধুরী (মাসুদ), ইয়ারপুর
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ ভুঁইয়া (মাষ্টার), শিমুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ. বি. এম আজাহারুল ইসলাম
সুরুজ, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ ফিরোজ কবীর, সাভার উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ
শাহাদাৎ হোসেন খান, পাথালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পারভেজ দেওয়ান, আশুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ শাহাব উদ্দিন
মাদবর।
কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের আহŸায়ক ফারুক হাসান তুহিন এর
সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাভার উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহাদাৎ হোসেন খান, ইয়ারপুর ইউনিয়ন
পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ ভুঁইয়া (মাষ্টার), শিমুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজাহারুল ইসলাস সুরুজ, আশুলিয়া

ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন মাদবর, পাথালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পারভেজ দেওয়ান, ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের
সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল কাদির দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান শাহেদ, আশুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি
আমজাদ হোসেন সরকার, আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহŸায়ক মোঃ কবির হোসেন সরকার, আশুলিয়া থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের
সভাপতি শহিদুল্লাহ মুন্সি, জাতীয় শ্রমিকলীগের আশুলিয়া থানা কমিটির যুগ্ন আহŸায়ক সানাউল্লাহ সানি ভুঁইয়া।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহŸায়ক ও ধামসোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সাইফুল
ইসলাম। আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, জাতীয় শ্রমিকলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ
সম্পাদকসহ উপস্থিত শতাধিক নেতা ও কয়েক হাজার কর্মী সমর্থক নিয়ে সুমন আহমেদ ভুঁইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু
এতো আয়োজন করে কি হলো যে, দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধতা নেই। সচেতন মহলের অভিমত-দলীয় শীর্ষ নেতার কথা না
মানলে তাদের রাজনীতি করার অধিকার নেই, দলের বদনামকারীদের পরিবর্তন করে যারা দলের স্বার্থে কাজ করেন তাদেরকে প্রতিনিধি ও
পদপদবি দেওয়া হোক। উক্ত প্রতিবেদন ধারাবাহিক ভাবে চলবে। পর্ব ১।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *