জুয়া ও মাদকের নেশাসহ অসামাজিক কর্মকান্ড ধবংস করছে যুবসমাজ

ঢাকা

হেলাল শেখঃ সারা দেশে জুয়া ও ভয়ংকর মাদকের নেশাসহ অসামাজিক কর্মকান্ড ধবংস করছে যুবসমাজ। “হোম ডেলিভারি করা হয় মাদক”
চাইলেই হাতের কাছে পেয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। রাজধানী ঢাকার আশপাশের এলাকা সাভার ও আশুলিয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়
‘মাদকদ্রব্য হোম ডেলিভারিতে’ ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। গ্রামগঞ্জে পাড়া মহল্লায়ও চলছে বিভিন্ন মাদকের জমজমাট কারবার। এইসব মাদকের টাকা
জোগাড় করতে মাদক সেবনকারীরা এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও খুনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করছে।
আশুলিয়ায় প্রায়ই লাশ পাওয়া যায়। জুয়া ও মাদকের বিষয়ে বিবাদ হওয়ায় বেশিরভাগ হত্যাকান্ডসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড সংঘটিত হচ্ছে
বলে সূত্র জানায়।
রবিবার (১০ অক্টোবর ২০২১ইং) সূত্র জানায়, বিভিন্ন মাদকদ্রব্য অর্ডার করলেই হোম ডেলিভারি করতে পারছে সংশ্লিষ্ট মাদক কারবারিরা। মাদক
সেবনকারীরাও খুব সহজেই কাছে পেয়ে যাচ্ছে নানারকম মাদক। অভিযোগ রয়েছে কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য ও কিছু ভুয়া সাংবাদিক এবং
কিছু মানবাধিকার কর্মী এসবের সাথে জড়িত থাকায় পুরোপুরিভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে না মাদক কারবার ও জুয়া খেলা। এই মাদক ও জুয়া
সিন্ডিকেট চক্রের সাথে অনেকেই জড়িত আছে বলে জানা গেছে। সচেতন মহল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক চেষ্টা করছেন মাদক
নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কিন্তু নতুন নতুন কৌশলে মাদক ব্যবসা করা হচ্ছে আর অপরাধমূলক কর্মকান্ডও বাড়ছে বলে অভিমত প্রকাশ করেন অনেকেই।
দেশের বিভিন্ন স্থানে চাল, ডাল, দুধ, চিনি ও পানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য আগে থেকেই ভোক্তা বাড়ি বসেই পেয়ে থাকেন। ব্যবসায়ী ও
দোকানদাররা এসব পণ্য চাহিদা অনুযায়ী ভোক্তার বাসা বাড়িতে পৌঁছে দেন, এখন দূর-দূরান্ত থেকেও ই-বাণিজ্যের কল্যাণে নিত্যব্যবহার্য বা
সৌখিন সব ধরণের পণ্য চলে আসে ভোক্তার ঘরে। “তাই বলে মাদকের হোম ডেলিভারি”! হ্যাঁ সম্প্রতি যশোরের অন্তত ৬জন মাদক ব্যবসায়ী দম্প্রতি
চাহিদা অনুযায়ী মাদক সেবীদের ঘরে মাদক ডেলিভারি দিয়ে থাকে। পাবনার আমিনপুর এলাকার রূপপুর, সাতপাড়া মালঞ্চিসহ বিভিন্ন এলাকায়
মাদক বেচা-কেনা হয় হোম ডেলিভারির মাধ্যমে। এরকম ঢাকা জেলার সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরের সীমান্তে (বাগবাড়ি) এলাকায় ৭-৮ জনের
একটি চক্র মাদক ব্যবসা করে, আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের রূপায়ন আবাসন ১ এর মাঠের ভেতরে কিশোর গ্যাং মাদক সন্ত্রাসীদের নিরাপদ
আস্তানায় পরিণত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাদক বিরোধী অভিযান চালায়, কিছু অপরাধী গ্রেফতার হয়, তারা আদালত থেকে
জামিনে এসে আবার সেই অপরাধ করছে। যেমন: মাদক ব্যবসায়ীদের ডেরায় যাওয়া ক্রেতাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এখন নতুন নতুন কৌশলে
মাদক বেচাকেনা হচ্ছে, যা অভিযানে ধরা যাচ্ছে না বলে পুলিশ জানায়।
দক্ষিণাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল, রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকা সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, উত্তরা, এবং চট্রগ্রামসহ
বিভিন্ন এলাকায় জীবন ধ্বংসকারী হেরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবা ট্যাবলেট, মদ ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য অর্ডার করলেই হাতের কাছে
পাচ্ছে (হোম ডেলিভারি) এইসব মাদক সেবন করে একদিকে যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে মাদকের টাকা জোগাড় করতে মাদক
সেবনকারীরা এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও খুনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করছে। সেই সাথে মাদক সেবন
করা অবস্থায় নেশার মধ্যে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ করে থাকে কিছু মাদক সেবনকারীরা। সেই সাথে তিন তাস ও ডিজিটাল চায়না জুয়া খেলার
টাকা জোগাড় করতে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করছে মাদক সেবনকারী ও জুয়ারুরা। সূত্র জানায়, অনেক
মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়ার মালিকরা নিজস্ব সিন্ডিকেট তৈরি করে মোবাইল ফোনে কল করে অথবা ম্যাসেজ এর মাধ্যমে কাঙ্খিত স্থানে পৌঁছে
তাদের কারবার করছে । নাম প্রকাশ না করা শর্তে আশুলিয়ায় কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, অটোরিক্সা চালক ও কিছু রিক্সা গ্যারেজ মালিক এখন মাদক ব্যবসা
করছে, কিছু বাড়ির মালিকের ছেলে ও মেয়ে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সেবন ও ব্যবসা করে। অনেকেই প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের ভয়ে কেউ নাম বলতে
সাহস পায় না। সূত্র জানায়, কিছু ওষুধের দোকানেও নেশার ট্যাবলেট বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। ভারত থেকে আসা ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক
ব্যবসা করে অনেকেই লাখ লাখ টাকার মালিক বনে গেছে। সেই সাথে জুয়ার মালিকরাও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অনেকেই এই অবৈধ ব্যবসা
করছে বলে তারা অনেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। এসব মাদক সেবন করে ১২-১৮ বছরের কিশোর, কিশোরী ও ১৮-৪০ বছরের যুবক যুবতীসহ
সব বয়সের লোকজন। কিছু পুলিশ সদস্য, কথিপয় সাংবাদিক ও কিছু উকিল, জুয়া ও মাদকের সাথে জড়িত আছে বলে কারাগার থেকে জামিনে
আসা মাদক মামলার আসামী রুবেল, সোহেল রানা এমনটি জানিয়েছেন। তারা বলেন, টাকা হলে কারাগারেও ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক
পাওয়া যায়, সেখানে জুয়া খেলাও চলে। আগে মানুষ বলতেন যে, জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দোকান ফার্মেসীতে সব স্থানে খোলা থাকে, আর এখন
জীবন ধ্বংসকারী মাদক বিক্রির জন্য সবখানে হোম ডেলিভারি হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যগণ সততা ও সাহসী ভুমিকায় কাজ করতে নতুন কৌশলে অভিযান পরিচালনা করলে হয়ত কিছুটা মাদক
নিয়ন্ত্রণসহ জুয়া বন্ধ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সচেতন মহল। বর্তমানে করোনার কারণে মাস্ক ব্যবহার করায় মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীদের চেনা
খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। এর কারণে অপরাধীরা অপরাধ করেও খুব সহজেই পালাতে পারছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চাইলেই জুয়া বন্ধ করাসহ
কিশোর গ্যাং মাদক সন্ত্রাসীদের আটক করা সম্ভব। জনসাধারণকে আরও সচেতন হতে হবে, গণমাধ্যমকে মাদকের ব্যাপারে সচেতনতামূলক বেশি
বেশি সংবাদ প্রচার করা দরকার। রাজধানী হাতিরঝিল থানার মামলা নং ৫০। তারিখঃ ২৮/০১/২০২১ইং ধারা ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ৩৬
(১) এর ১৪ (গ)/৪১। এই মামলার ৩জন আসামীকে গ্রেফতার করে ১২৫ বোতল ফেনসিডিল দিয়ে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে কেন্দ্রীয় কারাগারে
প্রেরণ করা হয়। সূত্র জানায়, এই আসামীদেরকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকা থেকে আটক করে তেজগাঁও জোনাল টিম, ডিবি তেজগাঁও

বিভাগ, ডিএমপি, ঢাকা। এর আগে র‌্যাব-৪ ও র‌্যাব-১০ এর বিশেষ অভিযানে ৫০ জনের বেশি জুয়ারুকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে
প্রেরণ করেন।
র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক (বিপিএম ও পিপিএম) জানান, এলিড ফোর্স র‌্যাব আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন
থেকেই সমুন্নত রেখে দেশের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে অপরাধ প্রতিরোধ, শান্তি জনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করে আসছে।
এছাড়াও জঙ্গীবাদ, মাদক সন্ত্রাস, অস্ত্র, খুন, ধর্ষণ, নাশকতা, স্পর্শকাতর ঘটনার রহস্য উদঘাটনসহ অন্যান্য অপরাধের পাশাপাশি সাম্প্রতিক
সময়ে বিভিন্ন ক্যাসিনো জুয়া এবং অনলাইন ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে র‌্যাব সদা সচেষ্ট। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি
বছরে ১২এপ্রিল ২০২১ইং গোপন সংবাদের ভিত্তি ১টি ইলেক্ট্রিক ক্যাসিনো বোর্ড, ২৪টি মোবাইল এবং নগদ ৯৩,০০০/-টাকাসহ ২৫জন
জুয়ারুকে হাতে নাতে গ্রেফতার করা হয়। অদুর ভবিষ্যতে ক্যাসিনোসহ অনলাইন ক্যাসিনো ও মাদক বিরোধী সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত
থাকবে এবং অপরাধীদের আটক করছে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *