লক্ষ্মীপুর ৬ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ায়, মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেফতার।

শিক্ষা
নাজমুল হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার ঃ 
শিক্ষক মানে মহাগুরু, শিক্ষক মানে পিতার সমতুল্য। হ্যাঁ এ বিষয়টি আমরা কম বেশ সকলে জানি সেই ছোট্টবেলা থেকে। শিক্ষক কখনো তার ছাত্রের খারাপ চাই না, ছাত্র- ছাত্রীদের ভালোর জন্য তাদেরকে শাসন করেন আবার তাদের  আদর ও করতে ভুলেন না। প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে  এবং নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন শিক্ষকরা।যাতে শিক্ষার্থীরা জীবনে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। আগেকার দিনের অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের স্কুলে ভর্তি করিয়ে প্রথমদিন শিক্ষকদের হাতে তুলে দিয়ে বলেন স্যার আজ থেকে আমার সন্তানকে আপনার কাছে দিয়ে গেলাম ওদের শরীরের মাংস গুলো আপনাদের আর হাড্ডি গুলো শুধু আমাদের।কোনোরকম অন্যায়,  বেয়াদবি করলে ছাড় দিবেন না দরকার হলে কঠোর শাস্তি দিবেন।আমাদের কোনো আপত্তি নাই। আর তখনকার দিনে বাচ্চাদের শাস্তি দিলে তারা বাসায় গিয়ে কান্নাকাটি করলে অভিভাবকরা বলতেন তোমরা অন্যায় করেছো তাই শিক্ষক তোমাদের শাস্তি দিয়েছে আর কখনো এরকম অন্যায় করবে না। শিক্ষার্থীরা অন্যায় করলে অভিভাবক ডেকে কত কথা শুনাতো লজ্জায় তাদের মাথা হেট হয়ে যেত অথচ শিক্ষকদেরকে কিছু না বলে বরং তাদের থেকে সন্তানদের কিভাবে ভালো করা যায় তার দিকনির্দেশনা নিতেন।তারা শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।  কারণ “”শিক্ষা জাতির  মেরুদন্ড, আর শিক্ষক হলেন কারিগর””। আর এখনকার বর্তমান সময়ে ও সবাই শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল কিন্তু আগেকার দিনের মতো না। আজকের এই সমাজে শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলা তো দূরের কথা সামান্য বেতের দু একটা বাড়ি দিলে এমনকি একটু রাগ ও কড়া কথা  বললে সাথে সাথে হাজির হয়ে যায় অভিভাবকরা, হাজির হয়ে যায় বড় বড় ভাইয়েরা। শিক্ষক দের বিরুদ্ধে মানববন্ধন , ক্লাস বর্জন কোথাও আবার ডেকে আনা হয় আমাদের সাংবাদিক ভাইদের। যতক্ষণ পর্যন্ত শিক্ষক ক্ষমা না চাইবে ততক্ষন পর্যন্ত চলবে দফা দফা একের পর এক আন্দোলন,  মানববন্ধন।
গত শুক্রবার একটা ভিডিও ভাইরাল হলে তোলপাড় শুরু হয় সারা বাংলাদেশে।
লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার হামছাদি কাজীর দিঘীর পাড় আলীয়া মাদ্রারাসার শিক্ষক কর্তৃক ৬ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেন শিক্ষক মোঃ মন্ঞ্জুরুল কাদের কবির (৩৯)। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নেয়া হয়েছে। 
একজন শিক্ষক তার শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা দিতে গিয়ে এইরকম কাজ করতে পারেন তাই বলে সরাসরি গ্রেফতার। আচ্ছা বুঝলাম শিক্ষক হিসেবে তার নিজ হাতে কাজ টা করা উচিৎ হয় নাই তিনি নাপিত এনে কাটতে পারতেন। এতে তিনি প্রশংসিত হতেন। কিন্তু তাই বলে একজন শিক্ষককে সরাসরি গ্রেফতার ভাবা যায় না,  মেনে নেওয়া ও যায় না কারণ তিনি তো অন্যায় করেন নি। শিক্ষার্থীদের সর্তক করার পর ও তারা শিক্ষকের কথা অমান্য করে মাদ্রাসায় ক্লাস করতে আসে তার প্রেক্ষিতে রাগের মাথায়  তিনি চুল কেটে দেন এতে তিনি অন্যায় করেছেন মানলাম কিন্তু সরাসরি গ্রেফতার না করে বিষয়টি  তদন্ত করার পর তাকে গ্রেফতার করা উচিৎ ছিল বলে মনে করি। 
আজকের এই বর্তমান সময়ে অতিরিক্ত আদর ভালোবাসার কারনে গত ২৫ বছরে লক্ষ লক্ষ সন্তানেরা  বখে গেছে। তাদের বখাটেপনার কারণে রাস্তা দিয়ে হাঁটা ও যায় না।আমার নিজের কাছে এরকম শত শত উদাহরণ আছে। আজকে যারা দেশের বড় বড় স্থানে অবস্থান করছেন তাদের একটু জিজ্ঞেসা করুনতো তাদের এই অবস্থানে আসতে তাদের মা – বাবা শিক্ষকদের ভুমিকা ছিলো কিনা,  করেছিল কি শাসন..? খোদ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথাই বলা যায়, তাঁর গৃহশিক্ষকের বাড়ি আমাদের লক্ষ্মীপুরেই।বঙ্গবন্ধু তার নিজের মুখে বলেছিলেন তার গৃহশিক্ষক ছিলেন অনেক রাগী তিনি বঙ্গবন্ধু কে প্রায়ই শাসন করতেন।আর হয়তো তার  এই শাসনের কারণে বঙ্গবন্ধু হয়েছেন আজ জাতির পিতা।
আর এখনকার আলালের ঘরের দুলালরা অতি আদর ও আশকরা পেয়ে না শুনছে মা- বাবার কথা, না শুনছে শিক্ষকদের কথা। 
 শিক্ষাব্যবস্থা ও  শাসন কতোটা অবিবেচক হলে একজন শিক্ষককে সরাসরি গ্রেফতার করা হয় তারই প্রমান আজকের এই ঘটনাটি। 
তাই বলতে ইচ্ছে করে-
“” আজও সেই শিক্ষক আছে, আছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও।
সেই বাদশাহ – আলমগীর আর তার সন্তান নেই, 
ক্লাস রুম আছে আগের মতোই,  কিন্তু শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা নেই।”””
যায়হোক আমাদের বুঝতে হবে এখন যুগ পাল্টেছে, আইন পাল্টেছে, বাবা-মায়ের স্থলে আর্বিভাব হয়েছে বড় ভাইয়েদের।যার কারনে এখন শিক্ষকরা ও আগের মতো কঠোর হতে পারেন না কারন কঠোর হলে তো তাকে শাস্তি পেতে হবে হারাতে হবে চাকরি,  হারাতে হবে সম্মান,  পেতে হবে লান্ঞ্চনা আর অপমান। 
যায় হোক পরিশেষে আমি এইটা বলবো না যে ধিক্কার জানাই সেই সমাজকে যে সমাজে শিক্ষকের কোনো সম্মান নাই বরং এটা বলতে পারি যে,  আপনার সন্তানকে সুশিক্ষায় সুশিক্ষিত করে ভালো মানুষ গড়ে তোলার  জন্য এরকম শিক্ষকদের ফাঁসির দাবি জানাতেই পারি। 
কি করে না তারা বলুন তো একটা বাচ্চাকে স্বরবর্ণ থেকে শুরু করে বিরাট অট্টালিকায় চাকরি উপযোগী করে এমনকি একজন দায়িত্বশীল ও  আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে দেয়। এই যে আপনি আমি শিক্ষিত দু- কলম লিখতে পারে,  টাকা উর্পাজন করতে পারি কেউ জিজ্ঞেসা করলে বলতে পারি মাস্টার্স পাশ, এম এ,  বি এ, অর্নাস, ডাক্তার,  ইন্জিনিয়ারিং,  পাইলট, ডিগ্রি পাশ………….আরও আছে।তবে এই সফলতার পিছনে কার অবদান বেশি একটু  চিন্তা করে বলুনতো।অথচ আমরা সে শিক্ষককে পান থেকে চুন ঘষলেই দোষারোপ করি। 
সবশেষ একটা কথা বলবো আমরা সকলে সচেতন হলেই এই সমাজটা পরিবর্তন হবে, সৌন্দর্য আসবে আমাদের সামাজিক  সাংস্কৃতিতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *