শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু-১৫ অক্টোবর দশমী

ধর্ম

সাইফুল ইসলাম জয় (হেলাল শেখ): মহা ষষ্ঠপূজার মধ্যদিয়ে সোমবার থেকে শুরু হলো পাঁচদিনব্যাপী শারদীয় দুর্গাপূজা। শুক্রবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বাঙালির এই শারদোৎসব। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এ ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে এখন সারাদেশে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দুর্গাপূজাকে আনন্দমুখর করে তুলতে দেশজুড়ে পূজামন্ডপগুলো বর্ণাঢ্য সাজে সাজানো হয়েছে। সূত্র জানায়, কোথাও কোথাও আবার মেলা বসানো হয়েছে।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, দেবী দূর্গা এবার আসছেন ঘোটকে অর্থাৎ ঘোড়ায় চড়ে। ঘোড়া এমন একটি বাহন যা
যুদ্ধের সময়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে। ঘোড়ার পায়ের শব্দও যুদ্ধেরই ইঙ্গিত দেয়। তাই পঞ্জিকা মতেই ঘোটকে আগমণ মানেই ছত্রভঙ্গের কথাই বলা হয়। অর্থাৎ এই সময়ে যুদ্ধ, অশান্তি, হানাহানির সম্ভাবনা থাকে। পঞ্জিকা বলছে, মা দূর্গার এবার দোলায় গমন। দোলায় গমনের ফলাফল হল মড়কলাগা।
রবিবার (১০ অক্টোবর ২০২১ইং) সারাদেশের পূজামন্ডপগুলোতে দূর্গা দেবীর বোধন অনুষ্ঠিত হয়। শারদীয়
দূর্গাউৎসবের প্রাক্কালে এই বোধনের মাধ্যমে দক্ষিণায়নের নিদ্রিত দেবী দূর্গার নিদ্রা ভাঙার জন্য বন্দনা পূজা
করা হয়। দেশের মণ্ডপে-মন্দিরে পঞ্চমীতে সায়ংকালে তথা সন্ধ্যায় এই বন্দনা পূজা অনুষ্ঠিত হয়। ১১অক্টোবর ষষ্ঠী, ১২অক্টোবর সপ্তমী, ১৩অক্টোবর অষ্টমী, ১৪অক্টোবর নবমী, এবং ১৫ অক্টোবর দশমী।
২০২১ইং এবার সূত্রমতে, সারাদেশে ৩২হাজার ১২৮টি পূজামন্ডপে দর্গোৎসব অনুষ্ঠিত। ঢাকা মহানগরে পূজা
হচ্ছে ২৩৮টি জায়গায়। যা গত বারের চেয়ে ৪টি বেশি। সাভার উপজেলা ও পৌরসভা এবং আশুলিয়ায় ২০৪টি
জায়গায় পূজার আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ১নং শিমুলিয়া ইউনিয়নে দূর্গা মন্দির। ইয়ারপুর ইউনিয়নে ৫টি
মন্দির স্থাপন করা হয়।
পূরাণ মতে, রাজা সুরথ প্রথম দেবী দূর্গার আরাধনা শুরু করেন। বসন্তে তিনি পূজার আয়োজন করায় দেবীর পূজাকে বাসন্তী পূজা বলা হয়। কিন্তু রাবণের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধার করতে লংকা যাত্রার আগে শ্রী রামচন্দ্র দেবীর পূজার আয়োজন করেছিলেন শরৎকালের অমাবস্যা তিথিতে, যা শারদীয় দূর্গোৎসব নামে পরিচিত। দেবীর শরৎকালের পূজাকে এজন্যই হিন্দুমতে অকাল বোধনও বলা হয়।
বিশেষ করে দুর্গোৎসব উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। এ বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৩ কোটি
টাকা অনুদান দিয়েছেন বলে সূত্র জানায়। যা গতবারের চেয়ে ১ কোটি টাকা বেশি দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে,
করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে দুর্গাউৎসব সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পরিহার করে সাত্তি¡ক পূজায় সীমাবদ্ধ রাখতে ভক্তদের প্রতি অনুরোধ করেছেন পূজা উদযাপন পরিষদ। এছাড়া মেলা, আলোকসজ্জা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আরতি প্ররতিযোগিতা বন্ধ এবং বিজয়া দশমীর দিন শোভাযাত্রা পরিহার করে প্রতিমা বিসর্জন দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি গণমাধ্যমকে জানান, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আসার পর প্রতিবছর ধারাবাহিক ভাবে পূজার মন্ডপ এর সঙখ্যা বেড়েছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আস্থা, সরকারি অনুদান ও শুভানুধ্যায়ীদের অনুদান নিঃসন্দেহে পূজার সংখ্যা বাড়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। রাজধানী ঢাকা ও সাভার আশুলিয়াসহ সারাদেশের প্রতিটি পূজামন্ডপের নিরাপত্তা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকার বাহিনী-পুলিশ, আনসার, র‌্যাব ও বিডিআর সদস্যরা দায়িত্ব পালনে রয়েছেন। পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি প্রা প্রতিটি মন্ডপে স্বেচ্ছাসেবক দল দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ করে রাজধানীর ঢাকেরশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গনে মহানগর পূজা কমিটির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। উক্ত দুর্গাপূজায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *