শ্রীপুরে  অবশেষে মাথা গোঁজার ঠাঁই হলো  বৃদ্ধা বাছেরুন নেছার  

ঢাকা
শেখ জসিম, গাজীপুর : 
জীবনের সাথে যুদ্ধ করে, একটু বেঁচে থাকার আশায়, ঝড় বৃষ্টি আর বৈরী আবহাওয়ার রোষানলে কষ্ঠে পার হল সারাটা জীবন। সন্ধা হলেই কুকুর শিয়াল আর বন্য প্রাণীদের আনাগুণার মধ্যেই ছিল যার বসবাস। জীবন সঙ্গী বলে তার জীবনে ঘটেনি কারো আগমন। বয়স  ৭০  বছর পার হলেও বিয়ে হয়নি  বাছেরুন নেছার। 
দারিদ্রতা আর অসুস্থতাকে সঙ্গী করে জীবন সায়াহ্নে একাকীত্বতা এখন তার জীবনের একমাত্র সঙ্গী, অবশেষে মাথা গোঁজার ঠাঁই হলো বাছেরুন নেছার  
ফারহানা ও ফাহিম কম্পিউটার ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা  সাদ্দাম হোসেন অনন্ত অসহায় বসতবাড়িহীন বাছেরুন নেছার ঘরটি তৈরি করতে  সহযোগিতা করেন। 
গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার ২ নং গাজীপুর ইউনিয়নের নিজমাওনা  গ্রামের ৯নং ওয়ার্ডের বাছাতন নেছার  পিতা মৃত বাছের আলী মাতা মমিরনের মেয়ে।অন্যের বাড়িতে বসবাস করেন বাছেরুন নেছা। বৃদ্ধ বয়সে দেখার মত কেউ নেই ,স্থানীয় জনপ্রতিনিধির দ্বারে দ্বারে ঘুরেও জোটেনি সরকারি সহায়তা। 
মা বাবা মারা যাওয়ার পর বর্তমানে পৃথিবীতে আপন বলতে কেউ নেই বাছেরুন নেছার। মানসিকভাবে একটু সমস্যা থাকার কারণে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তিনি।মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। বৃদ্ধ বয়সে খেয়ে না খেয়ে কোনরকম জীবন যাপন করছেন।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ,ছোট্ট একটি ছাপরা ঘরে  রোদ বৃষ্টি ঝড়ের সাথে যুদ্ধ করে কোনরকমে জীবনটাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। যেখানে সন্ধ্যা হলেই অন্ধকার নেমে আসে।  আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়া মেলেনি ,কোপি বাতির  নিয়ন আলোয় ধুকে ধুকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে  বাছেরুন নেছা।
এমন তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে সাদ্দাম হোসেন অনন্ত খোজঁ নিয়ে টিনসেট ঘর, পাকা মেঝে ,ঘরের আসবাবপত্র,খাবারের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় চাল ডালসহ এক মাসের খাবারের ব্যবস্থা করেন। 
এ বিষয়ে সাদ্দাম হোসেন অনন্ত এই প্রতিবেদক কে বলেন, তথ্য প্রকাশ হবার পর  নিজ সামর্থ অনুযায়ী  বাছেরুন নেছার ঘরসহ সকল কিছুর দায়িত্বও নিয়েছি।বৃদ্ধ বয়সের সময়টুকু যেন  ভালো ভাবে কাটাতে পারে ভবিষ্যতেও খোঁজ নিবো।
অসহায় বাছেরুন নেছার ঘর করে দেয়ায়  এলাকাবাসী সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞ জ্ঞাপন করেন সাদ্দাম হোসেন অনন্তের প্রতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *