পোকার আক্রমনে ভালুকার আমন চাষীরা দিশেহারা

অর্থনীতি

আনিছ মাল, ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : ময়মসিংহের পশ্চিম ভালুকার বিভিন্ন ইউনিয়ন গুলোর কৃষি নির্ভর প্রধান সফল আমন ধানের ফসলে ব্যাপক হারে মাজরা ও কারেন্ট পোকার আক্রমনসহ বি এলবি ঝলসানো বা পাতা মোড়ানোর মতো রোগে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস জরুরী স্কোয়ার্ড ঘোষণার মধ্য দিয়ে মাঠে নেমেও পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সরকারের নিয়োজিত ডিলারদের নি¤œ মানের সার,বীজ ও নকল কীটনাশক সরবরাহে এই দুর্যোগের কারন বলে অভিযোগ কৃষদের।

সরেজমিনে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নের সোনাখালী ডাকাতিয়া ইউনিয়নের হিজলীপাড়া আংগারগাড়া,ডাকাতিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়।
আমন মৌসমে কৃষকদের রোপন করা রঞ্জিত জাতের থোর ধানে কারেন্ট ও মাজরা পোকার আক্রমনে একরের পর একর ফসলের প্রান্তর লালচে রঙেগর মরা ধানের নিলা ভূমিতে পরিনত হয়েছে। এছাড়াও কৃষি অফিসের প্রর্দশনী প্লটসহ চাষীদের আবাদ করা বি-ধান একাওরে পাতা মোড়া রোগ ও বিএলবি’র আক্রমণের ফলে শত-শত কৃষক ফসল হারিয়ে পরিবার নিয়ে দু বেলা খেয়ে পড়ে বাঁচার চিন্তায় ঘুম হারাম করছে।
এই বিষয়ে মল্লিকবাড়ীর সোনাখালীর বর্গাচাষী মৃত হযরত আলীর বিধাব স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন (৫৫) এর সাথে কথা বললে তিনি জানান,বিািভন্ন জনের কাজ থেকে সুধী টাকা নিয়ে ১৫ কাটা জমি চাষ করে সে,প্রথম দিকে ধান থোর বাঁধায় ধরন দেখে বাম্পার ফলন ঘরে তুলার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে কিন্তু থোর থেকে ধান বের হওয়ার সাথে-সাথেই তার সেই স্বপ্ন কুড়ে-কুড়ে খায় মাজরা ও কারেন্ট পোকা। বেশ কয়দিন যাবত আশ-পাশের লোকজনের কাছ থেকে ফসলে পোকার আক্রমনের খবর পেয়ে ক্ষেতে আগাম কীটনাশক ছিটায় ওই বিধবা নারী আর তার সাথে-সাথে ভেবেছিল হয়তো তার ক্ষেতের ফসল আর পোকায় নষ্ট করতে পারবেনা কিন্তু সেই আশাও তার গুরেবালী। গত ২০ অক্টোবর সকালে তিনি ক্ষেতে গিয়ে দেখতে পান তার সব ধান পোকার আক্রমনে বাদামী রং ধরে মরে গেছে । এক দিকে পরিবারের খোড়াক যোগানো অন্যদিকে সুধী ঋণ পরিশোধের চিন্তায় হাউ-মাউ করে কেঁদে উঠেন তিনি।
দুই ছেলে আর নাতনীদের বড় সংসার অনেক আগে বিধবা হয়েও নিজেই কৃষি কাজ করে জীবন যাপন করে আসছেন। কখনোই কারো কাছে দয়া কিংবা করোনার পাত্র হিসেবে হাত পাতেননি পরিশ্রমি এই নারী। কিন্তু এবার কি ভাবে চলবে তার পরিবার সদস্যদের জীবন আর কোথা থেকেই দিবে দেনার টাকা এমন দু:চিন্তায় দিশেহারা আনোয়ারা । সরকার যদি তাকে এবার একটা বিধাব ভাতার কার্ড দেয় তাহলে হয়তোবা একটু চিন্তা মুক্ত হতে পারবেন তিনি।
এমনিভাবে ডাকাতিয়া ইউনিয়নের হিজলীপাড়ার কৃষক আক্কাস আলী (৪০) আহাম্মদ আলী (৫৫) এর সাথে কথা হলে তারা জানায় এ বছর তারা আমন মৌসমে রঞ্জিত জাতের ধান চাষ করেন কিন্তু ক্ষেতে ধান গাছের গোড়ায় ছোট পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। তারা এটিকে কারেন্ট পোকা বলে থাকেন। অসংখ্য ছোট ছোট সাদা পোকা ধান গাছের গোড়ায় রস চুষে খেয়ে ফেলায় ধানের গোছা মরে পাতা হলদে হয়ে যায়।
সরকারে নিয়োজিত ডিলারদের কাছ থেকে তারা কীটনাশক নিয়ে দুই তিন বার ছিটিয়েও কোন সুফল পাচ্ছেনা তারা ওই সময় অভিযোগ করেন ডাকাতিয়া ইউয়িনের কীটনাশক ডিলার মমতাজ ট্রেডার্সের মালিক ফরহাদ আহম্মেদ (৩০) নকল ও মেয়াদ উত্তীর্ণ কীটনাশক সরবরাহ করায় তাদের এই অবস্থায় পড়তে হয়েছে।কৃষি অফিসের বøক সুপারভাইজাররা কৃষকদের কাছে না গিয়ে ডিলারদের দোকানেও বসে থাকতে দেখেন বলেও তাদের অভিযোগ।
কৃষকদের এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে কীটনাশক ডিলার ফরহাদ আহম্মেদ এর মের্সাস মমতাজ ট্রেডার্সে গিয়ে তার দোকানে মেয়াদউত্তীর্ণ কীটনাশক পাওয়া গেলে ডিলার ফরহাদকে জিজ্ঞাস করা হলে তিনি এসব বিক্রি করেন না ফেলে দেয়ার জন্য রাখা হয়েছে বলে জানান।
এ ব্যাপারে ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা’ জেসমিন জাহান এর অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি পরে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি জানান, ‘দিনে প্রখর রোদ, রাতে ঠাÐা, বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার আমন ফসলে পোকার আক্রমন বেড়েছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে বিশেষ টিম গঠণ করে কাজকরার কথা উল্লেখ করে ডিলারদের কাছে না গিয়ে কৃষকদের সরাসরি কৃষি অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন ওই কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *