একই পরিবারের ৩জন প্রার্থী- বিভক্ত হচ্ছে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা

ঢাকা

হেলাল শেখঃ আওয়ামীলীগ ও বর্তমান সরকার এবং দেশ ও জাতির স্বার্থে গোয়েন্দা সংস্থা’র তদন্ত করাসহ যেসকল
জনপ্রতিনিধি ও নেতারা অনিয়ম দুর্নীতি করেছে, তাদেরকে তালিকা করে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের হিসাব নেওয়ার
দাবি জানান সচেতন মহল।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে আওয়ামী লীগ থেকে আজীবন বহিস্কার করা নিয়ে চলছে
রাজনৈতিক মাঠে অন্যরকম খেলা ও পারিবারিক বিরোধে বিভক্ত হয়ে পড়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা,
এটা দলের জন্য বিপদজনক বিষয়। কখন যে, কার ভাগ্যে কি আছে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না বলে অভিমত প্রকাশ
করেন অনেকেই। অন্যদিকে পাবনাসহ বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধি’র বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ
উঠেছে। জানা যায়, পাবনার বেড়া পৌরসভা নির্বাচনে একই পরিবারের ৩জন মেয়র প্রার্থী হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর ২০২১ইং) জানা গেছে, পাবনার বেড়া পৌরসভা নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন করার অভিযোগে
পাবনা-১ আসনের সাংসদ সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুকে এলাকা ছাড়তে বলেছেন রিটার্নিং
কর্মকর্তা। তিনি গত সোমবার সাংসদের কাছে ওই চিঠি পাঠান বলে জানান। সাংসদের ভাই ও পৌরসভা
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আব্দুল বাতেন রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আচরণবিধি
লঙ্ঘন করার অভিযোগ করেছেন। বেড়া পৌরসভা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, বেড়া পৌরসভা
নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন সাংসদ শামসুল হক টুকুর বড় ছেলে কেন্দ্রীয় যুবলীগের
নেতা আসিফ শামস। এখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সাংসদ শামসুল হক টুকুর ছোট ভাই-
বর্তমান মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল বাতেন। এরই সঙ্গে পৌর নির্বাচনে স্বতন্ত্র
প্রার্থী হয়েছেন সাংসদের বড় ভাইয়ের মেয়ে এস এম সাদিয়া আলম।
‘এদিকে স্থানীয় সূত্র জানায়, চাচা আব্দুল বাতেনকে ‘লুটেরা’ ও ‘দুর্নীতিবাজ’
আখ্যায়িত করে মেয়র পদে প্রচাররণা চালাচ্ছেন সাংসদের ছেলে আসিফ শামস ও তার
চাচাতো বোন সাদিয়া। এর ফলে পারিবারিক বিরোধে বিভক্ত হয়ে পড়ছে স্থানীয় আওয়ামী
লীগের নেতা-কর্মীরা।’
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও সাংসদ শামসুল হকের ছোট ভাই আব্দুল বাতেন গণমাধ্যমকে বলেন,
তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয় বসানো হয়েছে, বিষয়টিকে
উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার অভিযোগ: অন্যদিকে শামসুল হকের নির্দেশে পৌর এলাকায় বহিরাগত সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের
আনাগোনা বেড়েছে, তারা এরাকার সাধারণ ভোটারদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। টুকু নিজের ছেলের জন্য প্রকাশ্যে
ভোট চেয়ে যাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে হুমকি-ধমকি দিয়ে নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। তিনি
জানান, এ ঘটনায় সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করা হয়েছে। সাংসদ শামসুল
হককে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাংসদ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী বিধান
সম্পর্কে আমি অবহিত। আমি আচরণবিধি লঙ্ঘন করিনি, করার ইচ্ছেও নেই বলে তিনি জানান।
‘সাংসদ শামসুল হকের বড় ভাইয়ের মেয়ে সাদিয়া আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার কর্মী-সমর্থনদের নির্বাচনী
মাঠে নামতেই দেওয়া হচ্ছে না। তাঁরা প্রচার চালাতে বাইরে নামলেই বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

এছাড়াও তাদের লাঞ্ছিত করা হচ্ছে বলে জানান। তিনি বলেন, আমরা এ অবস্থার পরিবর্তন চাই।’আওয়ামী লীগের
‘বিদ্রোহী’ প্রাথীর কর্মী-সমর্থকদের হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের
মনোনীত প্রার্থী আসিফ শামস গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার চাচা আবদুল বাতেন দুর্নীতি-অনিয়মের কারণে
জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তিনিই সন্ত্রাসীদের লালন করেন। এ কারণেই দলীয় মনোনয়ন পাননি তিনি। এখন সে
দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নৌকার বিপক্ষে ভোট করছেন।
এ বিষয়ে জেলা জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা ও বেড়া পৌরসভা নির্বাচন রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুর
রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সাংসদেরা নির্বাচনী
কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। কিন্তু পাবনা-১ আসনের সাংসদ শামসুল হক এই বিধান অমান্য করেছেন বলে
অভিযোগ উঠেছে। এর কারণেই তাঁকে এলাকা ত্যাগ করতে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’
অন্যদিকে নাটোর, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকার সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই, গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমসহ আওয়ামী লীগ
থেকে বহিস্কার হওয়া চেয়ারম্যান ও এমপিসহ অনেকেই দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ
উঠেছে। সেই সাথে কিছু জনপ্রতিনিধি’র বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ধর্ষণ ও জমি দখলসহ অনিয়ম দুর্নীতির
অভিযোগ রয়েছে, তাদেরকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়া দলের বদনাম হচ্ছে বলে অনেকেই জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *