আশুলিয়ায় গার্মেন্টস কর্মীর তিন মাসের শিশুকে ভুল চিকিৎসা’র অভিযোগ!

স্বাস্থ্য

স্টাফ রিপোর্টারঃ ঢাকার আশুলিয়ার গোরাট এলাকার নাইটেংগেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন ‘ফাতেমা পেইন কেয়ার সেন্টার’ এর বিরুদ্ধে তিন মাসের শিশুকে ভুল চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।এরফলে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তার পরিবার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে স্থানীয় নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিলে সেখানে ভর্তি না নেয়ায় এরপর সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এতে অতিরিক্ত প্রায় লক্ষাধিক টাকা গুণতে হয় ভুক্তভোগী পরিবারকে। এ বিষয়ে সঠিক বিচার চেয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ভুক্তভোগী পরিবার আশুলিয়া থানায় একটি জিডি করেন। জিডি নং ১০৮৮। তারিখ ১১/০৪/২০২২ইং।
মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল ২০২২ইং) সকালে জানা গেছে, উক্ত ভিকটিম তিন মাসের শিশুর বাবা এরশাদ হোসেন ও মা
তানিয়া বেগম আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় ‘দি রোজ’ নামের একটি পোশাক কারখানায় চাকুরি করেন। উক্ত
শিশুটির নাম তানজীম হোসেন। ভিকটিমের মা মোছাঃ তানিয়া বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, গত (৩ এপ্রিল
২০২২ইং) প্রথম রোজা’র দিনে আমার বাচ্চার কানে একটা ফোঁড়া দেখা যায়। সেই ফোঁড়া’র ব্যথায় বাচ্চা কান্নাকাটি করে, এরপর ফোঁড়া চিকিৎসার জন্য আমি স্থানীয় গোরাট ‘ফাতেমা পেইন কেয়ার সেন্টারে নিয়ে যাই। সেখানে প্রতিষ্ঠানের মালিক ডাক্তার আহসান হাবিব আমার বাচ্চার কান ধরে টানাটানি করে ওয়াশ করে দেয় এবং একটা এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন পুশ করেন। এরপরেই আমার বাচ্চা আর নড়াচড়া করে না। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম আমার শিশু ছেলে ঘুমিয়েছে।সেখান থেকে বাসায় নিয়ে আসার পরে বাচ্চাকে বিছানায় শুইয়ে দেই।
এর কিছুক্ষণ পরে দেখি তার হাত-পা শক্ত হয়ে গেছে। তখন আমি চিৎকার করে কান্নাকাটি করলে বাসার পাশের
ভাড়াটিয়ারা এসে দ্রæত হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। তখন কোনকিছু ভেবে না পেয়ে স্থানীয় সরকার মার্কেট নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাই। সেখানে আইসিইউ বেড না থাকায় দায়িত্বরত
চিকিৎসক অন্য হাসপাতালে দ্রুত নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে সেখান থেকে দ্রæত সাভার এনাম মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই, সেখানে আমার বাচ্চাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়, এর ৩৬ ঘন্টা পর আমার বাচ্চা চেতন হয়ে চিৎকার করে কান্না করতে থাকে। তিনি জানান, ভুল চিকিৎসা করার কারণে এই সমস্যা হয়েছে বলে সেখানকার ডাক্তার জানায়। তবে ভুলভাবে ইনজেকশন পুশ করার কারণে এই ড্রাগ রিয়াকশন করেছে বলে জানা যায় সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দ্বায়িত্বরত চিকিৎসকের কাছ থেকে। এই গরীব অসহায় গার্মেন্টস কর্মীর তিন মাসের শিশু বাচ্চা হাসপাতালে ৭দিন ভর্তি থাকায় প্রায় লক্ষাধিক টাকা খরচ ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলে জানান শিশুটির মা তানিয়া ও বাবা এরশাদ হোসেন। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবী-আমরা যাতে করে এর সুষ্ঠ বিচার পাই এজন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি। এ ব্যাপারে জানতে ও বক্তব্য নিতে সরেজমিনে গিয়ে ফাতেমা পেইন কেয়ার সেন্টারের মালিক ডাক্তার আহসান হাবিবকে পাওয়া যায়নি। তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি লোকজনের মারফতে জানান, শিশুটির পরিবার যদি মনে করেন যে, আমার চিকিৎসা ভুল, তাহলে তারা যেন আইনি প্রক্রিয়ায় মোকাবেলা করেন। অনেকেই জানান, এরকম অনেক ঘটনা ঘটেছে তার চিকিৎসালয়ে কিন্তু উক্ত চিকিৎসক হাবিব স্থানীয় প্রভাবশালী সন্ত্রাস বাহিনী দিয়ে
ভুক্তভোগী রোগীর পরিবারকে হুমকি প্রদান করে এবং বিভিন্ন ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে থাকেন।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ সায়েমুল হুদা’র সাথে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা
করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানায়, এ বিষয়ে আশুলিয়া থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। পুলিশ ও র‌্যাব জানায়, ৩ মাসের শিশুকে ভুল চিকিৎসা দেওয়া ও অসহায় পরিবারের লক্ষাধিক টাকা ক্ষতি হওয়া বিষয়টি অমানবিক, এ ব্যাপারে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া বলে তারা জানান। র‌্যাব জানায়, অপরাধী সে যেই হোক না কেন তাকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে। উক্ত প্রতিবেদনের ধারাবাহিক পর্ব-১।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *