মাত্র চারদিনে চাঞ্চল্যকর ডিভোর্সী নারী হত্যাকান্ডের রহস্য যেভাবে উদঘাটন  করলো পুলিশ

ক্রাইম রিপোর্ট

মারুফ সরকার: নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে গলা ও হাত-পায়ের রগ কাটা এক নারীর লাশ উদ্ধারের ৪দিন পর হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। সোনাইমুড়ী-চাটখিল সার্কেল (এএসপি) সাইফুল ইসলামের নের্তৃত্বে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ রবিবার ভোরে উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের পিতাম্বরপুর গ্রামের একটি সবজিখেত থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চুরি, মোবাইল ও ওড়না উদ্ধার করেছে।

ওই নারীর নাম জান্নাতুল ফেরদাউস ওরফে পাখি (৩০)। তিনি দেওটি ইউনিয়নের পিতাম্বরপুর গ্রামে বাবার বাড়িতে থাকতেন। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর প্রায় চার বছর ধরে জান্নাতুল তাঁর ছয় বছরের মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকতেন।

রবিবার সকাল ভোরে আটককৃত পরকিয়া প্রেমিক জীবন (২৬) এর জবানবন্দীর ভিত্তিতে উপজেলার পিতাম্বপুর গ্রামের মিন হাজী বাড়ির পাশে সবজি ক্ষেত থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চুরি, মোবাইল ও ওড়না উদ্ধার করেন।

এ হত্যাকান্ডের পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সোনাইমুড়ী থানার এসআই শাহ আলম দেওটি ইউনিয়নের বাসিন্দা নুর নবী, স্বপন ও সেনবাগ উপজেলার মনির ও আবু সুফিয়ানকে আটক করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের পিতম্বপুর গ্রামের দিলসাদের পুত্র ও নিহত নারীর পরকিয়া প্রেমিক জীবনকে মোবাইল ট্রেকিং এর মাধ্যমে আটক করা হয়। তার জবানবন্দির ভিত্তিতে সোনাইমুড়ী থানার এসআই শাহ আলম ও এএসপি সাইফুল ইসলাম পরকিয়া প্রেমিক জীবনকে নিয়ে রবিবার ভোরে ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত মালামাল উদ্ধার করে। সোনাইমুড়ী থানার ওসি হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে জান্নাতুল তাঁর বড় বোনের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর রাত আটটার পর থেকে জান্নাতুলের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাঁর কোনো খোঁজ পায়নি।পরে আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরের একটি একটি উঁচু সবজিখেতে একটি গলাকাটা লাশ পড়ে থাকার খবর পান তাঁরা। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, সেখানে তাঁর বোনের লাশ পড়ে আছে। খবর পেয়ে সোনাইমুড়ী থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *