আশুলিয়ায় সরকারি নয়নজুলি খালটি শত বছরেও দখলমুক্ত হয়নি-রাস্তার বেহাল অবস্থা

জাতীয়

সাইফুল ইসলাম জয়ঃ ঢাকার আশুলিয়ায় সরকারি নয়নজুলি খালটি শত বছরেও প্রভাবশালীদের কাছ থেকে উদ্ধার করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। এলাকাবাসী জানায়, প্রায় শত বছরের নয়নজুলি খালটি প্রভাবশালীদের দখল করে রাখায় কোনো ভাবেই দখলমুক্ত করতে পারেনি কেউ, এর কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না করায় সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তায় হাটু পানি হয়, রাস্তাগুলো ভেঙ্গে বেহাল অবস্থায় পরিণত হয়েছে।


সোমবার (২০ জুন ২০২২ইং) বিকেল ৫টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ঢাকার আশুলিয়ার শত বছরের নয়নজুলি খাল প্রভাবশালীরা দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করে রেখেছে। নয়নজুলি খালটি উদ্ধার করা হবে বলে জানিয়েছিলেন ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) শহীদুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ। এর আগে সাভার উপজেলার আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেবাসহ জেলায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন শেষে ডিসি শহীদুল ইসলাম গণমাধ্যমের সামনে এসব কথা বলেছিলেন কিন্তু তাদের মুখের কথা মুখে থাকছে নয়নজুলি খালটি দখলমুক্ত বা উদ্ধার হচ্ছে না-রাস্তাগুলোরও বেহাল অবস্থা, এ যেন দেখার কেউ নেই।
ঢাকা জেলা প্রশাসক মোঃ শহীদুল ইসলাম বলেছিলেন, এখন মানুষ ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে সঠিক বিচার পাওয়ায় আদালতে মানুষ কম যাচ্ছেন, কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামকে ইউনিয়ন পরিষদে পাওয়া যায় না, তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেন না, বাসায় গেলেও দেখা করেন না। এরকম অনেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদে ঠিকমত আসেন না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। এতে করে অনেক মানুষের দুর্ভোগ ও ভোগান্তি বেড়েছে। এর আগে ঢাকা জেলা প্রশাসক আশুলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে বলে আশুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন মাদবরের প্রশংসা করেছেন। উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন শেষে তিনি ইউপি সদস্যদের সাথে মত বিনিময় করেন এবং প্রতিবন্ধীদেরকে হুইল চেয়ার উপহার দিয়েছেন।
দেখা যায়, নয়নজুলি খালটি দখল করে প্রভাবশালীরা বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করে রাখলেও প্রশাসন নিরব ভুমিকায় রয়েছেন, এই খালটি উদ্ধার করতে এর আগে অনেকেই পরিদর্শন করেছেন কিন্তু কি কারণে খালটি উদ্ধার করা হয়নি এর উত্তর কারো কাছে নেই। মহাসড়ক থেকে শাখা সড়ক ও বিভিন্ন রাস্তা দেখে মনে হয় ড্রেনে পরিণত হয়েছে। দিন যায়, মাস যায়, বছর যায়, যুগ যুগ চলে গেলেও আশুলিয়াবাসীর ভোগান্তি ও দূর্ভোগ যাচ্ছে না। নয়নজুলি খালটি আর কোনদিন উদ্ধার হবে কি না জানতে চায় সচেতন মহল জনগণ। অভিযোগ রয়েছে, উক্ত এলাকায় অপরিকল্পিত বাড়ি ঘর নির্মাণ করায় আর নয়নজুলি খালটি দখলমুক্ত না হওয়ায় বর্ষাকালে বৃষ্টির পানিতে রাস্তায় হাটু পানি হয়। আশুলিয়ার বাইপাইল-টঙ্গী সড়কের ঢালাই পাকা রাস্তায় পানি দেখা যায় চোখে পড়ার মতো। এর আগে উক্ত নয়নজুলি খালটি উদ্ধারের জন্য একাধিক বার এলাকাবাসী মানববন্ধন করলেও খালটি উদ্ধার হয়নি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, চেয়ারম্যান মেম্বার ও এলাকার নেতাকর্মীদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ ভুঁইয়া অসুস্থ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ইয়ারপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ হালিম মৃধা বলেন, এলাকার রাস্তার বেহাল অবস্থা’র কারণে জনদুর্ভোগ বাড়ছে। এর কারণ, অপরিকল্পিত বাড়ি ঘর নির্মাণ ও নয়নজুলি খালটি প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় পানি যাওয়ার যায়গা নেই, এর কারণে রাস্তার বেহাল অবস্থায় জনগণের ভোগান্তির শেষ নাই। তিনি আরও বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাঃ এনামুর রহমান এমপি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনসহ এলাকাবাসী সকলের সহযোগিতা পেলে দ্রæত নয়নজুলি খালটি উদ্ধার করা যাবে, রাস্তার বেহাল অবস্থা আর থাকবে না।
আশুলিয়া সহকারি কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, সরকারি সম্পদ নদী, খাল উদ্ধারে সরকার কাজ করেছে, অতি দ্রæত আশুলিয়ার নয়নজুলি খালটি উদ্ধার কাজ শুরু করবেন বলেও তিনি দাবি করেন।
ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য-দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাঃ এনামুর রহমান জানিয়েছেন, মেম্বার চেয়ারম্যানসহ এলাকাবাসী সহযোগিতা করলে নয়নজুলি খালসহ সরকারি খাস জমি উদ্ধার করা সম্ভব। জনগণের স্বার্থে যেকোনো কাজে সাহায্য সহযোগিতা করবেন বলেও তিনি জানিয়েছেন, এর আগে একটি মসজিদে জুম্মার নামাজে অংশগ্রহণ করে তিনি এসব কথা বলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *