লামায় বৃষ্টির অপেক্ষা—তীব্র দাবদাহে ফেটে ফাইতং বিভিন্ন বিল শঙ্কায় আমন চাষিরা

অর্থনীতি
ইসমাইলুল করিম বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি :
ঋতু অনুযায়ী আগস্ট মাস বর্ষাকাল। সাধারণত বাংলাদেশে এই মাসে অন্যসময়ের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়। কৃষকরা এই বৃষ্টির পানিকে কাজে লাগিয়ে আমন চাষে ব্যস্ত সময় পার করেন। কিন্তু এবার সেই অনুপাতে বৃষ্টি না হওয়ায় দেশের শস্যভাণ্ডার খ্যাত বান্দরবানের লামায় ফাইতং ইউনিয়ন ১নং ওয়ার্ড থেকে ৯নং ওয়ার্ড পর্যন্ত বিভিন্ন বিলে দেখা দিয়েছে তীব্র খরা। এতে জমি ফেটে চৌচির হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে চারা। ফলে তীব্র দাবদাহে পুড়ছে আমন চাষিদের স্বপ্ন। 
বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) সরেজমিনে ইসমাইলুল করিমের প্রতিবেদন উঠে এসেছে ফাইতং ইউনিয়ন বিভিন্ন বিলের কোথাও কোন পানি নেই। এমনকি যেসব কূপে পানি জমে থাকতো সেগুলোও শুকিয়ে গেছে। ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে কৃষকদের চোখেমুখে হতাশার আবরণ। 
সাধারণত জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে বীজতলায় বীজ বোনা হয়, শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে জমিতে রোপণ করা হয়। কৃষকরাও বর্ষার বৃষ্টির আশায় বসে থাকেন। যাতে বৃষ্টির পানিতে রোপা আমন চাষ সহজে করা যায়। কিন্তু এবার আষাঢ় মাসে বৃষ্টি কম হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। পানির অভাবে ফাইতং বিলের জমি শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে, লালচে হয়ে আসছে সদ্য রোপণ করা ধানের চারা।
খেদারবান বিলের কৃষক আনোয়ার হোসেন জানান, বৃষ্টির পানিতে রোপা আমন ধানের ফলন ভালো হয়। কিন্তু এ বছর চাহিদা অনুযায়ী বৃষ্টি না হওয়ায় শ্যালো মেশিন ও বৈদ্যুতিক মোটর চালিয়ে জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে। এতেও বাঁচানো যাচ্ছে না ফসল। বৃষ্টি না হওয়ায় পানির ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
হাশেম উল্লাহ নামে স্থানীয় আরেক কৃষক জানান, ফসলের ক্ষেত ফেটে চৌচির হওয়ায় জমির ফসল নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। শ্যালো মেশিন কিংবা বৈদ্যুতিক মোটর চালিয়ে রোপা আমন আবাদ উপযোগী নয়। বৃষ্টির পানিতে রোপা আমন চাষ ভালো হয়। 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন কুমার বর্মন বলেন, এবছর উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভায় বেশি কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। বীজতলা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ইতোমধ্যে পূরণ হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি অফিস।
তিনি আরো বলেন, জমিতে ফাটল দেখা দেওয়ায় কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে সম্পূরক সেচ দেয়ার জন্য। যেসব জমিতে তীব্র খরায় ফাটল দেখা দিয়েছে, সেসব জমিতে পাম্পের মাধ্যমে পানি দিতে বলা হয়েছে। ও কৃষকদের চাষের জমি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.