মোঃ আবুল কাশেমঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে গত ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় জড়িত ১২৮ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হামলার ঘটনায় গঠিত তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে বহিষ্কৃতদের তালিকায় থাকা দুইজন শিক্ষার্থী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বলে জানা গেছে। এরা হলেন—ইব্রাহিম হাসান সানিম, যিনি জবির নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, এবং মাহমুদুল হাসান আকাশ, যিনি জবির মার্কেটিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও জবি ছাত্রলীগের মার্কেটিং ইউনিটের সভাপতি ছিলেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, মাহমুদুল আকাশ ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং লাঠি হাতে মিছিলের প্রথম সারিতে ছিলেন। অন্যদিকে, ইব্রাহিম হাসান সানিম ভিসি চত্বর এলাকায় নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যারা হামলায় জড়িত ছিল এবং যাদের শনাক্ত করা গেছে, তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেটে নেওয়া হয়েছে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠি পাঠানো হবে।”
ঢাবির প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, “এটি বহিষ্কারের চূড়ান্ত তালিকা নয়, বরং সত্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। আমরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করব এবং প্রয়োজনে অন্য ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে জবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, “আমরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানি না। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের জানালে, আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলে নানা আলোচনা চলছে। ঢাবি প্রশাসন এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকলেও বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।