মোঃ আলমগীর মোল্লা
এই ১৭ বছরে বিভিন্ন মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় ১০ থেকে ১১ বার জেল খেটেছি। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলায় সাজা খেটেছেন। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাংলার জমিনে থাকতে পারেন নাই। অথচ এই দেশে ভোট ছিল না, মানুষের কথা বলার অধিকার ছিল না, নির্বাচিত কোনো প্রতিনিধি ছিল না। ছিলো শুধু নির্যাতন, হত্যা, গুম ও লুটপাট। এমন কোন প্রতিষ্ঠান নেই যে তারা টাকা চুরি করে নাই। লক্ষ লক্ষ টাকা, কোটি কোটি টাকা তারা পাচার করেছে। গণঅভ্যুত্থানে তারা শুধু বিদায় হয়নি, হেলিকপ্টার দিয়ে পালিয়েছে। এরকম লজ্জাজনক ঘটনার বাংলাদেশের ইতিহাসে আর হয়নি।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় মোক্তারপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে বাঘুন উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে তিনি এ সব বলেন।
মোক্তারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক বাগমার নয়নের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর জেলা বিএনপির আহব্বায়ক সাবেক সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন আরো বলেন, আপনাদের মোক্তারপুরের সন্তান মেহের আফরোজ চুমকি উনি ৫২টি সরকারি সফর করেছেন। দেশে-বিদেশে আমোদ ফুর্তি করেছেন। জায়গায় জায়গায় প্রাসাদ নির্মাণ করেছেন। জনগণের জন্য কোন কাজ করেনি। তিনি আরো বলেন, ত্যাগের বিনিময়ে গণঅভ্যুত্থানের অর্জিত ফসল সরকারের কাছে আমরা আমানত রেখেছি। জনগণের আমানত যেন খেয়ানত না হয় এজন্য সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য এত ত্যাগ।
জামায়াতের নেতাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন- নির্বাচন আক্রমন করে কথা বলা আমি পছন্দ করি না। আমরা সবাই মিলেমিশে কালীগঞ্জে বসবাস করতে চাই। এত ফেসবুকে নিউজ করে, টেলিভিশনের সাক্ষাৎ দিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছাড়ানো এটা কোন ভদ্রলোক করতে পারে না।
যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য বলেন, এমন কোন কাজ করা যাবে না যেখানে মানুষের শান্তি বিঘ্নিত হয়, চলাফেরায় বিঘ্ন ঘটে। এমন সব ঘটনায় আমরা কিন্তু সাংগঠনিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়েছেন। জনগণের বিপক্ষে যায় এমন কোন কাজ করা যাবে না। যে কোন মূল্যে ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত ফসল ধরে রাখতে হবে। আমাদের নেতাকর্মীদের ঈমানি দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোন ধরনের চাঁদাবাজি মারামারি করা যাবে না।
মোক্তারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজনু শেখের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির মাষ্টার, সহ-সভাপতি খায়রুল হাসান মিন্টু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান খান লাবলু, সাবেক জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মোল্লা,জামালপুর কলেজ গভ:বডি’র সভাপতি জাহাংগীর কবির প্রমূখ।
এ সময় অন্যান্যের মাঝে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মোবারক হোসেন শাওন, জিল্লুর রহমান খান, জামালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুনুর রশিদ দেওয়ান, জাসাস উপজেলা সাবেক সভাপতি আরিফ আমান ভূঁইয়া, মোক্তারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনসুর আহমেদ, তুমলিয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন আকন্দ, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আলিনুর হাসান, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব হাসানুর রহমান জুয়েল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জুবায়ের আহমেদ, সদস্য সচিব সুমন, হুমায়ুন সরকার, শামীম, নাজমুল সরকার, আকরাম, আরাফাত, হাসিবুল ইসলাম শান্ত, উপজেলা, বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ প্রায় তিন হাজারোধিক মুসুল্লি সাধারণ উপস্থিত ছিলেন।