
হেলাল শেখঃ ঢাকার আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় শারমিন গ্রুপের বহুতল ভবনের ছাদ থেকে পড়ে জামাল উদ্দিন (৩৯) নামের এক কারখানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার দীর্ঘ সময় পরও হত্যা মামলা না নেওয়ায় আশুলিয়া থানার সামনে অবস্থান করেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) রাত ১২টার দিকে আশুলিয়া থানার সামনে অবস্থান করছিলেন জামাল উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা, তাদের দাবি জামাল উদ্দিনকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। ভিকটিমের মৃত্যুর রহস্য কি তারা জানতে চায়। এর আগে সকাল বুধবার ৯টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুরে অবস্থিত শারমিন গ্রুপ থেকে জামাল উদ্দিনের মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর দুপুরে আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ভিকটিম জামাল উদ্দিন গাজীপুর সদরের বুরুলিয়া ডুয়েট এলাকার মৃত মো. সেকেন্দার আলীর ছেলে। তিনি শারমিন গ্রুপের ডিভিশন-৩-এর সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহত ব্যক্তির স্বজনদের দাবি, অফিসিয়াল বা অন্য কোনো আক্রোশের জেরে তাকে হত্যা করে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে নাটক সাজানো হয়েছে। তাদের দেখতে না দিয়েই লাশ মর্গে পাঠিয়ে দিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
নিহতের বড় ভাই ইস্কান্দার আলী খান বলেন, এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত হত্যা। কারখানা কর্তৃপক্ষ ও ভেতরের লোকজন ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আমরা প্রথমে থানায় মামলা করতে আসলাম। তখন নিলো না। আবার পরে এসে যখন কথা বলি, তখন অজ্ঞাতপরিচয় আসামি দিয়ে মামলা নেবে না। আবার এখন নামসহ মামলা দিতে চাচ্ছি, থানা থেকে নানা অজুহাত দেখানো হচ্ছে। সাত-আটবার অভিযোগ লিখে আনার পরও নিচ্ছে না। থানা থেকে বলছে, নাম ছাড়া মামলা করলে করবেন অথবা কোর্টে গিয়ে মামলা করবেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মতো করে আমরা মামলা করতে না পারলে থানার সামনে থেকে যাব না। প্রয়োজনে সারারাত থানার সামনে থাকবো।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ ঘটনায় নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে নিহতের ভাই একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। আমরা এই অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত শেষে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করবো।
Reporter Name 












