ঢাকা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ডাকাত দলের সরদারসহ ৯ সদস্য গ্রেফতার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:২৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • ৩৫ Time View

হেলাল শেখঃ ঢাকার আশুলিয়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সরদারসহ ৯ পেশাদার ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের ব্যবহৃত একটি নোহা মাইক্রোবাস, ডিবি পরিচয়ে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত তিনটি জ্যাকেট, একটি হ্যান্ডকাফ, দুটি খেলনা পিস্তল, দুটি ইলেকট্রিক শক মেশিন, তিনটি ধারালো স্টিলের সুইচ গিয়ার এবং একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে।

 

বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) দুপুরে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

 

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) রাত ৯টা ৫ মিনিটে আশুলিয়া থানাধীন জাতীয় স্মৃতিসৌধের সামনে জয় রেস্তোরাঁর পার্কিং এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিবি উত্তর-এর ওসি মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই মো. আব্দুল মুত্তালিব ও সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান চালিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের নয় সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে।

 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার পূর্ব দেলুয়া এলাকার মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. শামীম রেজা (৩০), একই জেলার চৌহালী থানার শৈলজানা এলাকার মৃত মোকশেদ বেপারীর ছেলে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৫০), বগুড়া জেলার শেরপুর থানার সদর হাসড়া এলাকার রজিব হোসেনের ছেলে মো. রাশেদ (৩৮), বরিশাল জেলার উজিরপুর থানার কাজীরা (শেখবাড়ী) এলাকার সাহেব আলী শেখের ছেলে পলাশ শেখ ওরফে আপন ওরফে আফজাল (৩৮), পাবনা জেলার সদর থানার বলরামপুর এলাকার মো. জয়নালের ছেলে মো. কামাল হোসেন (৪৫), নড়াইল জেলার কালিয়া থানার বড়নল এলাকার মৃত আব্দুল হালিমের ছেলে মো. সোহাগ ওরফে আব্দুল্লাহ (৪২), ঢাকা জেলার সাভার মডেল থানার কাতলাপুর এলাকার মৃত নোয়াব আলীর ছেলে মো. কামরুল হোসেন (৫৪), কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানার সদরপুর এলাকার মৃত সানোয়ার হোসেনের ছেলে মো. মনিরুল ইসলাম (৪০) এবং নরসিংদী জেলার বেলাবো থানার ছল্লাবাদ এলাকার মৃত আব্দুল আলীর ছেলে মো. রাসেল (৩৫)।

 

ডিবি পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তাররা বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা হলেও রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ভাড়া বাসায় অবস্থান করে সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতি করে আসছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ডিবি ও র‍্যাব সদস্য পরিচয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি করার কথা স্বীকার করেছেন। অভিযানে উদ্ধার হওয়া ডিবি লেখা জ্যাকেট, হ্যান্ডকাফ, খেলনা পিস্তল, ইলেকট্রিক শক মেশিন ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ডাকাতি সংঘটিত করতেন বলে জানিয়েছে ডিবি।

 

ডিবি পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ডাকাতি, ডাকাতির প্রস্তুতি, মাদক ও ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে পাঁচটি, রাশেদের বিরুদ্ধে সাতটি, পলাশ শেখের বিরুদ্ধে ছয়টি, সোহাগের বিরুদ্ধে চারটি এবং অন্যদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

 

ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে চক্রটির গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তাদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সরঞ্জাম প্রমাণ করে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ডাকাতি করত।

 

তিনি আরও বলেন, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে ঢাকা জেলা ডিবির অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। কোনো অপরাধীই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডাকাত, ছিনতাইকারী ও সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে চলবে।

 

গ্রেফতাকৃতদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে ডিবি পুলিশ জানায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষা, দুর্নীতি ও মাদকবিরোধী অবস্থানে তারেক রহমানের অঙ্গীকার তুলে ধরলেন এমপি ডা. বাচ্চু

আশুলিয়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ডাকাত দলের সরদারসহ ৯ সদস্য গ্রেফতার

Update Time : ০৮:২৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

হেলাল শেখঃ ঢাকার আশুলিয়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সরদারসহ ৯ পেশাদার ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের ব্যবহৃত একটি নোহা মাইক্রোবাস, ডিবি পরিচয়ে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত তিনটি জ্যাকেট, একটি হ্যান্ডকাফ, দুটি খেলনা পিস্তল, দুটি ইলেকট্রিক শক মেশিন, তিনটি ধারালো স্টিলের সুইচ গিয়ার এবং একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে।

 

বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) দুপুরে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

 

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) রাত ৯টা ৫ মিনিটে আশুলিয়া থানাধীন জাতীয় স্মৃতিসৌধের সামনে জয় রেস্তোরাঁর পার্কিং এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিবি উত্তর-এর ওসি মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই মো. আব্দুল মুত্তালিব ও সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান চালিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের নয় সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে।

 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার পূর্ব দেলুয়া এলাকার মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. শামীম রেজা (৩০), একই জেলার চৌহালী থানার শৈলজানা এলাকার মৃত মোকশেদ বেপারীর ছেলে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৫০), বগুড়া জেলার শেরপুর থানার সদর হাসড়া এলাকার রজিব হোসেনের ছেলে মো. রাশেদ (৩৮), বরিশাল জেলার উজিরপুর থানার কাজীরা (শেখবাড়ী) এলাকার সাহেব আলী শেখের ছেলে পলাশ শেখ ওরফে আপন ওরফে আফজাল (৩৮), পাবনা জেলার সদর থানার বলরামপুর এলাকার মো. জয়নালের ছেলে মো. কামাল হোসেন (৪৫), নড়াইল জেলার কালিয়া থানার বড়নল এলাকার মৃত আব্দুল হালিমের ছেলে মো. সোহাগ ওরফে আব্দুল্লাহ (৪২), ঢাকা জেলার সাভার মডেল থানার কাতলাপুর এলাকার মৃত নোয়াব আলীর ছেলে মো. কামরুল হোসেন (৫৪), কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানার সদরপুর এলাকার মৃত সানোয়ার হোসেনের ছেলে মো. মনিরুল ইসলাম (৪০) এবং নরসিংদী জেলার বেলাবো থানার ছল্লাবাদ এলাকার মৃত আব্দুল আলীর ছেলে মো. রাসেল (৩৫)।

 

ডিবি পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তাররা বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা হলেও রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ভাড়া বাসায় অবস্থান করে সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতি করে আসছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ডিবি ও র‍্যাব সদস্য পরিচয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি করার কথা স্বীকার করেছেন। অভিযানে উদ্ধার হওয়া ডিবি লেখা জ্যাকেট, হ্যান্ডকাফ, খেলনা পিস্তল, ইলেকট্রিক শক মেশিন ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ডাকাতি সংঘটিত করতেন বলে জানিয়েছে ডিবি।

 

ডিবি পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ডাকাতি, ডাকাতির প্রস্তুতি, মাদক ও ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে পাঁচটি, রাশেদের বিরুদ্ধে সাতটি, পলাশ শেখের বিরুদ্ধে ছয়টি, সোহাগের বিরুদ্ধে চারটি এবং অন্যদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

 

ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে চক্রটির গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তাদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সরঞ্জাম প্রমাণ করে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ডাকাতি করত।

 

তিনি আরও বলেন, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে ঢাকা জেলা ডিবির অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। কোনো অপরাধীই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডাকাত, ছিনতাইকারী ও সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে চলবে।

 

গ্রেফতাকৃতদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে ডিবি পুলিশ জানায়।